
ভোটের মুখে রাজ্যের প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। তারই মধ্যে কারা দফতরের ডিজি পদে নতুন করে নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশন এই পদে ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার নটরাজন রমেশ বাবুকে নিয়োগ করেছে।
জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে কারা দফতর নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, নির্বাচন এলেই বিভিন্ন জেল থেকে অনেক অপরাধীকে মুক্তি দেওয়া হয়। গত কয়েকটি নির্বাচনেও এই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অভিযোগ কমিশনের কাছেও পৌঁছেছিল।
কিছুদিন আগেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। সেই সময় এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি উল্লেখও করেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই প্রেক্ষিতেই কি কারা দফতরের শীর্ষপদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে নটরাজন রমেশ বাবুকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কমিশনই তাঁকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকেই কারা দফতরের ডিজি করা হল।
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনে একাধিক বদলির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। মুখ্যসচিব বদলানো নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক দল তৃণমূল সরব হয়েছে। এরই মধ্যে কারা দফতরের ডিজি পদে কমিশনের সরাসরি নিয়োগ নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যের কারা দফতরের ডিজি ছিলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা পরে নির্বাচন ঘোষণার পর কমিশন তাঁকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কারা দফতরের ডিজির পদটি খালি হয়ে যায়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এর আগে ভোটের সময় নির্বাচন কমিশন সাধারণত কারা দফতরে সরাসরি হস্তক্ষেপ করত না। চাইলে এই পদে কাউকে নিয়োগ না করে বিষয়টি রাজ্য সরকারের উপর ছেড়েও দিতে পারত কমিশন। কিন্তু এবার কমিশন নিজেই সেই পদে নিয়োগ করায় প্রশ্ন উঠছে, এর পিছনে কি শুধু প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি অভিযোগের ভিত্তিতে আরও কড়া নজরদারি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ?