শমীক ভট্টাচার্য-ফাইল ছবিShamik Bhattacharya Copter Incident: ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল না। কিন্তু আকাশ থেকে নেমে আসা এক ‘দানবীয়’ পাখার ঝাপটায় মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল আস্ত একটা গ্রাম! উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে মঙ্গলবার দুপুরে যা ঘটল, তাকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বললে ভুল হবে। এ যেন স্রেফ রাজনৈতিক দাপটের ‘মাশুল’। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কপ্টার নামার দাপটে উড়ে গেল একের পর এক গরিব মানুষের ঘরের টিনের চাল। গ্রামবাসী বুঝতেই পারেননি, জনসভা দেখতে গিয়ে নিজেদের মাথার ছাদটাই খোয়াতে হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালপোখরের সাহাপুর এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী সরজিৎ বিশ্বাসের সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন শমীকবাবু। সভার পাশেই তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী হেলিপ্যাড। অভিযোগ, কপ্টারটি যখন অবতরণ করছিল, তখন তার পাখার প্রবল হাওয়ায় খড়কুটোর মতো উড়ে যায় আশপাশের বেশ কিছু বাড়ির টিনের চাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরদোর। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক আর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
তৃণমূল অবশ্য এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি। ঝড়ের গতিতে আসরে নেমেছেন ঘাসফুল শিবিরের নেতারা। স্থানীয় প্রার্থী গোলাম রব্বানি থেকে শুরু করে রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, সকলেই বিঁধেছেন গেরুয়া শিবিরকে। কুণালবাবুর খোঁচা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন, আর বিজেপি হেলিকপ্টার দিয়ে সেই ঘর ভেঙে দিচ্ছে।”
অস্বস্তি ঢাকতে অবশ্য আসরে নেমেছে বিজেপিও। দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তারা সভামঞ্চ থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতা তাপস বিশ্বাসের বয়ানে মিলেছে মিশ্র সুর। তাঁর দাবি, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ‘নিয়ম’ না থাকলেও মানবিকতার খাতিরেই তাঁরা এই পদক্ষেপ করেছেন। জনসভা আর কপ্টার-বিলাসের মাঝখানে পড়ে এখন ভিটে হারানোর যন্ত্রণায় দিন কাটছে গোয়ালপোখরের হতভাগ্য কিছু মানুষের।