ফাইল ছবিপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভোটের সূচি ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে একাধিক বদলির সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে পীযুষ পাণ্ডে এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরানোর ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব কিছু ঠিক থাকলে সোমবার, ১৬ মার্চ সূর্যাস্তের আগেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই দুই পদে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দু’জন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিকের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন আগে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত ছিলেন, কিন্তু নবান্ন সেই সময় তাঁকে বেছে নেয়নি। অপরজনও সততা ও নিষ্ঠার জন্য পরিচিত হলেও প্রশাসনিক মহলে তিনি নবান্নের ‘গুড বুক’-এ ছিলেন না বলেই এতদিন তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।
এর আগে একই দিনে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকেও নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশ প্রসাদ মীনাকে সরানোর নির্দেশ দেয়। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মুখ্যসচিব এবং ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।
শনিবার দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কি না তার রিপোর্ট সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে।
পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, যেসব আধিকারিককে বর্তমান পদ থেকে সরানো হচ্ছে, তাঁদের ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না। প্রশাসনিক মহলের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ।