Mathabhanga Election Violence 2026: মাথাভাঙ্গা নিশীথের প্রচার ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, শীতলকুচিতে আক্রান্ত BJP প্রার্থী

Mathabhanga Election Violence 2026: রাতের অন্ধকারে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জোড়াফুল শিবিরের নেতা-কর্মীরা। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মাথাভাঙ্গা থানার সামনে চলে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ। তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মনের ক্ষুব্ধ প্রশ্ন, “পরিকল্পিতভাবে মহিলা কর্মীদের ওপরও হাত তোলা হয়েছে। মাথাভাঙ্গার মানুষ কি এমন সংস্কৃতিকে মেনে নিয়ে খুনিদের ভোট দেবেন?”

Advertisement
মাথাভাঙ্গা নিশীথের প্রচার ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, শীতলকুচিতে আক্রান্ত BJP প্রার্থীভোটের আগে রণক্ষেত্র মাথাভাঙ্গা: তৃণমূল কাউন্সিলরের রক্ত ঝরল রাস্তায়, পালটা আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী!

Mathabhanga Election Violence 2026: রবিবার রাতে বিজেপির ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে যুযুধান দুই শিবিরের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মাথাভাঙ্গা শহর। একদিকে তৃণমূল কাউন্সিলরের রক্তে ভিজল পিচ রাস্তা, তো অন্যদিকে বিরোধী প্রার্থীর গাড়ির কাচ চুরমার হওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে কোচবিহারে অশান্তির সেই চেনা ছবিটাই ফিরে এল ঝংকার মোড়ে।

শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝংকার মোড়ে ঝামেলার সূত্রপাত। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক যখন প্রচার সেরে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই ওই এলাকায় তৃণমূলের অস্থায়ী কার্যালয়ে থাকা কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর রায় বসুনিয়ার ওপর চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। মারধরের চোটে মুখ ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে তাঁর। রেহাই পাননি বাপ্পা হোসেন নামে আরও এক কর্মীও। ঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এক মহিলা তৃণমূল কর্মীর গায়ে থুথু ছেটানোর অভিযোগও করা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

রাতের অন্ধকারে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জোড়াফুল শিবিরের নেতা-কর্মীরা। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মাথাভাঙ্গা থানার সামনে চলে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ। তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মনের ক্ষুব্ধ প্রশ্ন, “পরিকল্পিতভাবে মহিলা কর্মীদের ওপরও হাত তোলা হয়েছে। মাথাভাঙ্গার মানুষ কি এমন সংস্কৃতিকে মেনে নিয়ে খুনিদের ভোট দেবেন?”

টানটান এই উত্তেজনার মধ্যেই রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ফের অশান্তির আগুন লাগে শীতলকুচি রোডে। এবার নিশানায় বিজেপির শীতলকুচি কেন্দ্রের প্রার্থী সাবিত্রী বর্মন। অভিযোগ, প্রচার সেরে ফেরার পথে তৃণমূলের ধরনা মঞ্চ থেকেই তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। লাঠি-সোঁটা দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হলে কার্যত পুলিশি পাহারায় প্রার্থীকে উদ্ধার করে থানায় 
নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার দায় নিতে অবশ্য নারাজ বিজেপি। নিশীথ প্রামাণিকের সাফ কথা, “পুলিশের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট রুটেই প্রচার চলছিল। তৃণমূলের তরফ থেকেই প্রথম গালিগালাজ আর পাথর বৃষ্টি শুরু হয়। পাথর ছুড়লে তো আর আমরা পাল্টা ফুল ছুড়ব না!” শুধু তাই নয়, যে অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বলে তোপ দাগেন নিশীথ।

Advertisement

এই সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামলাতে মাথাভাঙ্গা জুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের ব্যাপক টহলদারি। সাধারণ মানুষ যখন শান্তির ভোটের আশা করছেন, তখন যুযুধান দুই শিবিরের এই রক্তক্ষয়ী দাপাদাপি স্বাভাবিকভাবেই জেলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর করেছে।

রাত বাড়তে থাকলেও মাথাভাঙ্গা কিন্তু শান্ত হয়নি। শহরের মোড়ে মোড়ে চাপা গুঞ্জন আর পুলিশের গাড়ির সাইরেন জানান দিচ্ছে, লড়াই এখন আর কেবল ভোটবাক্সে সীমাবদ্ধ নেই। খণ্ডযুদ্ধের জেরে রাতভর সরগরম থাকল উত্তরবঙ্গের এই শহর। রাজনৈতিক তরজা এখন থানা থেকে মানুষের দরজায় পৌঁছে গিয়েছে, যার নিষ্পত্তি হবে সম্ভবত ইভিএমেই।

 

POST A COMMENT
Advertisement