Swapna Barman Namesake: বাঁদিকে নির্দল স্বপ্না, ডানদিকে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্নাকবি বলেছিলেন, নামে কিবা আসে যায়? কিন্তু জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে নামটাই এখন বড় গেরো হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরের জন্য। এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন এখানে জোড়াফুলের বাজি। কিন্তু তাঁর রাতের ঘুম কাড়তে উদয় হয়েছেন আরও এক স্বপ্না বর্মন। তবে তাঁর হাতে জোড়াফুল নেই, আছে আস্ত একটা ‘ফুলকপি’!
রাজগঞ্জের ভোট ময়দানে এখন দুই স্বপ্নার টক্কর। তৃণমূলের তারকা প্রার্থী স্বপ্না যখন রেলের চাকরি আর আইনি লড়াই সামলে ময়দানে নেমেছেন, তখন তাঁকে টেক্কা দিতে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন প্রধানপাড়ার গৃহবধূ স্বপ্না বর্মন। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিজেপির একাংশ নেতা ‘বহিরাগত’ প্রার্থী নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তলে তলে এই গৃহবধূকে নির্দল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, নামের বিভ্রাটে যদি কিছু ভোট কাটাকাটি করা যায়।
যদিও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এই ‘ফুলকপি’ বিভ্রাটকে খুব একটা আমল দিতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সোনাজয়ী স্বপ্নাকে চেনে না এমন মানুষ রাজগঞ্জে নেই। তবে ভোটের বাক্সে শেষমেশ ‘আসল’ স্বপ্নার দৌড় বজায় থাকে নাকি ‘ফুলকপি’র স্বাদে ভোটাররা মজে, সেটাই এখন দেখার। তৃণমূলের স্বপ্না বলছেন, ‘দুজনকে দেখতে আলাদা। উনি আমার চেয়ে বয়সে বড়। মানুষ ফুলকপি ও জোড়াফুলের প্রতীকের মধ্যে পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারবেন। কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
সাধারণ গ্রাম্য ভোটার, যাঁরা অত প্রতীকের ধার ধারেন না, ইভিএম-এ একই নাম দেখলে যে বিভ্রান্ত হবেন, তা মেনে নিচ্ছেন খোদ রাজনীতির কারবারিরাও। তবে প্রধানপাড়ার স্বপ্না দমে যাওয়ার পাত্রী নন। ছোটবেলায় ঝাণ্ডা হাতে মিছিলে দৌড়নোর শখ ছিল, বিয়ের ১০ বছর পর সেই ‘সুপ্ত ইচ্ছা’ পূরণ করতে তিনি এখন ফুলকপি প্রতীক নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। তাঁকে আবার রাস্তাঘাটে কেউ ‘যুবশ্রী’ তো কেউ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে প্রশ্ন করছেন। তিনি হাসিমুখে বোঝাচ্ছেন, তিনি তারকা স্বপ্না নন, তিনি ঘরের মেয়ে স্বপ্না। কিন্তু নির্দল হয়ে হঠাৎ ভোটে দাঁড়ালেন কেন? প্রধানপাড়ার গৃহবধূ স্বপ্নার উত্তর, ‘আমি গ্রামে থাকি। অনেক সমস্যা ও অনুন্নয়ন চোখের সামনে দেখছি। তাই কয়েকজন শুভানুধ্যায়ীর অনুরোধে এবারই প্রথম প্রার্থী হলাম। আমার পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আমি আগে প্রত্যক্ষ রাজনীতি করিনি।’