শিলিগুড়ি ডিসিআরসিতে গোলমালSiliguri College Counting Center Tension: সোমবার সকালে গণনার শুরুতেই চরম উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ি কলেজ কেন্দ্রে। পোস্টাল ব্যালট রাখা ট্রাঙ্ক নিয়ে কারচুপির গুরুতর অভিযোগে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। অভিযোগের কেন্দ্রে সেই চেনা শাসক বনাম নির্বাচন কমিশন সংঘাত। যার জেরে সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছে শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া। এই তিন গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা।
কী নিয়ে এই বিবাদ?
গণনা শুরু হওয়ার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টরা বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, পোস্টাল ব্যালট রাখা ছ’টি ট্রাঙ্কের মধ্যে পাঁচটি আগে থেকেই খোলা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সামনেই এই সিল করা ট্রাঙ্ক খোলার কথা। কিন্তু ট্রাঙ্কগুলি আগে থেকেই অবারিত থাকায় গণনায় জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে সরব হন শাসক শিবিরের কর্মীরা।
গণনাকেন্দ্রের ভেতরে তৃণমূল এজেন্টদের সঙ্গে নির্বাচন আধিকারিকদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এজেন্টদের প্রশ্ন, সিল কেন আগে থেকেই ভাঙা ছিল? এই প্রশ্নের সদুত্তর না মেলায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, তিনটি কেন্দ্রের গণনাই বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আধিকারিকরা।
কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পুরো ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেলেও, কমিশনের তরফ থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি মেলেনি। দীর্ঘক্ষণ গণনা বন্ধ থাকায় প্রার্থীরা যেমন দুশ্চিন্তায়, তেমনই ফলাফল জানতে উদগ্রীব হয়ে থাকা আমজনতার মধ্যে বাড়ছে প্রবল উৎকণ্ঠা। শিলিগুড়ির এই ‘ট্রাঙ্ক-বিতর্ক’ এখন গোটা রাজ্যের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।