
Udayan Guha Paresh Adhikary Arrest Fear: শিয়রে ভোট। আর তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেই ‘গ্রেপ্তারি’ আতঙ্কে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। প্রথম দফার নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে তৃণমূলের আশঙ্কা, দলের হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে জালে পুরতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই আশঙ্কায় এবার রক্ষাকবচ চেয়ে তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, ভোটের ময়দান থেকে তাঁদের সরিয়ে রাখতেই এই নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সোমবার দিনহাটা থেকে কার্যত বোমা ফাটালেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা তথা দিনহাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁকে এবং মেখলিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এদিন দিনহাটার মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে উদয়ন দাবি করেন, ভোটের দিন যাতে তাঁরা বুথে বুথে ঘুরতে না পারেন, কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন উদয়ন। তাঁর দাবি, দিনহাটা ভিলেজ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্পে’র ফর্ম বিলি করছে বিজেপি। ভোটের মুখে এভাবে সরকারি প্রকল্পের লোভ দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি বলে সরব হয়েছেন তিনি। উদয়নের আর্জি, যদি তাঁদের গ্রেফতার করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ যেন ইভিএম মেশিনে ভোট দিয়েই এই অন্যায়ের যোগ্য জবাব দেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কোচবিহারের লড়াই এবার মান-সম্মানের লড়াই। সেখানে উদয়ন গুহ বা পরেশ অধিকারীর মতো নেতাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অ্যাডভান্টেজ পাবে বিরোধী পক্ষ। এই সমীকরণ বুঝেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রুজু করেছে তৃণমূল। এখন দেখার, আদালত এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দেয় কি না। আপাতত গ্রেপ্তারির কালো মেঘ আর আইনি লড়াই, দুইয়ের দোলাচলে তুঙ্গে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ।