Shankar Ghosh Talk To Chandranath: 'কথা বলতে বলতেই গুলির শব্দ...' চন্দ্রনাথের সঙ্গে ফোনে কী কথা বলছিলেন BJP-র শঙ্কর?

Shankar Ghosh Talk To Chandranath: কথা বলতে বলতে হঠাৎই চন্দ্রনাথের গলাটা জড়িয়ে যায়। কানে আসে গুলির শব্দ। শঙ্করবাবু বারংবার ‘চন্দ্র চন্দ্র’ বলে চিৎকার করলেও ওপার থেকে সাড়া মেলেনি।

Advertisement
'কথা বলতে বলতেই গুলির শব্দ...' চন্দ্রনাথের সঙ্গে ফোনে কী কথা বলছিলেন BJP-র শঙ্কর?Shankar Ghosh Talk To Chandranath: 'কথা বলতে বলতেই গুলির শব্দ...' চন্দ্রনাথের সঙ্গে ফোনে কী কথা বলছিলেন BJP-র শঙ্কর?

Shankar Ghosh Talk To Chandranath: বুধবার রাত ১০টা নাগাদ, শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ উলটোডাঙা থেকে বিধায়ক হস্টেলের দিকে ফিরছিলেন। সেই সময় ফোনেই শুভেন্দুবাবুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তাঁর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফর এবং শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। শঙ্করবাবু জানান, কথা বলতে বলতে হঠাৎই চন্দ্রনাথের গলাটা জড়িয়ে যায়। কানে আসে গুলির শব্দ। শঙ্করবাবু বারংবার ‘চন্দ্র চন্দ্র’ বলে চিৎকার করলেও ওপার থেকে সাড়া মেলেনি। শঙ্করবাবু বলেন,  "এরপর ফোন করি কয়েকবার। ফোন না ধরায় টেক্সট মেসেজ করেন, ‘কীরে ঠিক আছিস তো?’ এর কিছুক্ষণ পর ফের ফোন করতেই এক অপরিচিত কণ্ঠ ডুকরে কেঁদে ওঠে, ‘স্যারকে গুলি করে দিয়েছে।’

আতঙ্কিত শঙ্কর দ্রুত শুভেন্দু অধিকারীকে খবর দেন। সেই সময় শুভেন্দু কোলাঘাটে। খবর পাওয়ামাত্রই স্তম্ভিত বিরোধী দলনেতা দ্রুত মধ্যগ্রামের দিকে রওনা হন। বৃহস্পতিবার সকালেও শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বারবার বলছিলেন, "ওভাবে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি।"

বুধবার রাত ২টোয় মধ্যমগ্রামের ভিভা সিটি হাসপাতালের ওয়েটিং লাউঞ্জের প্লাস্টিকের চেয়ারে শূন্য দৃষ্টিতে বসে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। থমথমে মুখ রাজেশ কুমার, রুদ্রনীল ঘোষ, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি থেকে স্বপন দাশগুপ্তদের। হাসপাতালের বাইরে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর কড়া পাহারা। কারোওরই বিশ্বাস হচ্ছে না যে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা বিশ্বস্ত সেনাপতি চন্দ্রনাথ রথ আর নেই। কয়েক ঘণ্টা আগের এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড সব ওলটপালট করে দিয়েছে

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে বিধানসভার সরকারি গাড়িতেই মধ্যগ্রামের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। পথে মোটরবাইকে এসে আততায়ীরা তাঁর গাড়ি আটকায়। খুব কাছ থেকে বুক লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি চালানো হয়। চালকের গায়েও লাগে তিনটি গুলি। সেই রক্তাক্ত অবস্থাতেই অসামান্য সাহসিকতায় গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান চালক। পেছনের সিটে থাকা চন্দ্রনাথের অন্য এক সহযোগী মাথা নীচু করে ফেলায় তাঁর গায়ে গুলি লাগেনি।

Advertisement

হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যখন চন্দ্রনাথের নিথর দেহ থেকে ৯ এমএম পিস্তলের বুলেট বের করা হচ্ছে, তখন বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শুভেন্দু। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে অনুরোধ করেন, “এদের একজনও যেন পার না পায়।” ডিজি স্বীকার করে নিয়েছেন, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আততায়ীরা সম্ভবত দীর্ঘক্ষণ রেইকি করে গাড়ির নম্বর ও রাস্তা চিনে তবেই হামলা চালিয়েছে। চণ্ডীপুরের ভূমিপুত্র চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দুর লড়াইয়ের অন্যতম ভরসা। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে বঙ্গ রাজনীতিতে ফের প্রতিহিংসার ছায়া। তবে চোয়াল শক্ত করে শুভেন্দু অনুগামীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর শরীরী ভাষাই বলে দিচ্ছে, এই লড়াই তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন। 

 

POST A COMMENT
Advertisement