New Chief Minister Of West Bengal: বাংলায় সরকার গড়া নিশ্চিত, এখন মুখ্যমন্ত্রী কাকে করা হবে? তা নিয়ে জল্পনাNew Chief Minister Of West Bengal: দীর্ঘ দেড় দশকের ঘাসফুল শাসনের অবসান। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জুড়ে বইল প্রবল ‘গেরুয়া’ ঝড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় ভাবমূর্তিকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে জয়ের সরণিতে ফিরল বিজেপি। ম্যাজিক ফিগার অনায়াসে টপকে ২০০ আসনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন মোদি-শাহের সেনানীরা। এই বিপুল জয়ের হাত ধরে নবান্নে পরিবর্তনের তৃতীয় অধ্যায় শেষ করে চতুর্থ অধ্যায়ের সূচনা করল পদ্ম শিবির।
ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম, নজরকাড়া লড়াই
এবারের ভোটে সবথেকে বড় আকর্ষণ ছিল ভবানীপুর। নিজের পুরনো গড় ধরে রাখতে মরণপণ লড়াই চালিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টোদিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিলেন তাঁরই একসময়ের সহযোদ্ধা তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গণনার শুরুতে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হলেও শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে দিনভর চলল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। অন্যদিকে, ২০২১-এর সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি উসকে নন্দীগ্রামে নিজের জমি ধরে রাখতে মরিয়া ছিলেন শুভেন্দু। খাস কলকাতা ও শহরতলিতেও তৃণমূলকে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে বিজেপি।
মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনা তুঙ্গে
বিপুল এই সাফল্যের পর এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন, কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন নন্দীগ্রামের লড়াকু নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ক্যারিশমতেই গত ৫ বছরে তৃণমূলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে বিজেপি। তবে লড়াইয়ে নাম রয়েছে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অভিজ্ঞ নেতা দিলীপ ঘোষেরও। শমীক সভাপতি হওয়ার পর দলকে ফের এককাট্টা করেছেন। তাঁর ঠান্ডা মাথা নতুন-পুরনো দ্বন্দ্ব অনেকটাই মিটিয়ে ফেলেছে। যার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে। দিলীপবাবু মাঝখানে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও তাঁর আলাদা ক্যারিশমা রয়েছে। নাকি পরিচিত প্রতিবাদী মুখ রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা অগ্নিমিত্রা পাল বা শঙ্কর ঘোষদের মতো কাউকে বেছে নেবে গেরুয়াবাহিনী? তবে নতুন সরকার গঠনে দিল্লির হাইকমান্ড কার ওপর ভরসা রাখে, এখন সেটাই দেখার।
পরিবর্তনের হাওয়া ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:
গণনার শুরু থেকেই বিজেপি জেলা থেকে শহর। সর্বত্রই দাপট দেখাতে শুরু করে। কলকাতার ১১টি আসনেও লড়াই হয়েছে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ বাংলা থেকে শুরু করে উত্তরের পাহাড়, সব জায়গাতেই মমতার জনমোহিনী প্রকল্পগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে বিজেপির বিকল্প পাওয়াল তত্ত্ব। ১৫ বছর পর বাংলা দেখল এক নতুন ভোর, যেখানে তৃণমূলের দাপুটে শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের চাবিকাঠি এখন বিজেপির পকেটে।