যোগী আদিত্যনাথের হুঁশিয়ারিYogi Adityanath Statement On Bengal Win: গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে, অবশেষে বাংলায় ফুটল পদ্ম। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সর্বত্রই এখন আবিরের খেলা। আর এই জয়ের আবহেই লখনউ থেকে হুঙ্কার দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বাংলার জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে যোগী সাফ বললেন, “এই জয় সেইসব দলের জন্য কড়া বার্তা, যারা জনহিতের বদলে তোষণ আর অপরাধীদের আড়াল করতেই ব্যস্ত ছিল।” তাঁর মতে, যাঁরা সনাতন ঐতিহ্যকে বারবার অপমান করেছেন, বাংলার মানুষ ব্যালট বক্সে তাঁদের ‘সূপড়া সাফ’ করে যোগ্য জবাব দিয়েছেন।
যোগী আদিত্যনাথের দাবি, গত ১৫ বছরের অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলা এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রকৃত ‘সোনার বাংলা’র দিকে এগোবে। ২০১৭ পরবর্তী উত্তরপ্রদেশ তথা গোরক্ষপুরের উন্নয়নের খতিয়ান টেনে তিনি বলেন, “মজবুত নেতৃত্ব আর স্বচ্ছ নীতি থাকলেই যে কোনও রাজ্যের ভোলবদল সম্ভব, যা উত্তরপ্রদেশ করে দেখিয়েছে।” তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করে তিনি জানান, উন্নয়নমূলক সম্পদের অপব্যবহার এবং অপশাসনই জোড়াফুলের পতনের মূল কারণ।
এদিকে সোমবারের ঐতিহাসিক জনাদেশের পর মঙ্গলবারও বজায় ছিল টানটান উত্তেজনা। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৭-এ। মঙ্গলবার সবথেকে রোমাঞ্চকর লড়াই দেখা গেল রাজারহাট-নিউ টাউন কেন্দ্রে। ১৮ রাউন্ডের দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধের পর বিজেপির পীযূষ কানড়িয়া মাত্র ৩০৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়কে। পীযূষ পেয়েছেন ১,০৬,৫৬৪ ভোট, আর তাপসবাবু আটকে গেলেন ১,০৬,২৫৫-তে। এই জয়ের ফলে তৃণমূলের গ্রাফ নেমে এল ৮০-র কোটায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী-শাহের নিখুঁত রণকৌশলই এই জয়ের চাবিকাঠি। ২০২১-এ বিজেপির ভোট শেয়ার ছিল ৩৮ শতাংশ, যা এবার লাফিয়ে পৌঁছেছে ৪৫ শতাংশে। অন্যদিকে ৪৮ শতাংশ থেকে ধসে পড়ে ৪১ শতাংশে এসে ঠেকেছে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলই বাংলায় ক্ষমতায় বসতে চলেছে। রাজনৈতিক পণ্ডিতদের মতে, এ শুধু ক্ষমতার হাতবদল নয়, বরং বাংলার দীর্ঘদিনের বাম-ঘেঁষা বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক আদর্শের আমূল পরিবর্তন। এখন সবার নজর রাজভবনের দিকে। গেরুয়া শিবিরের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কে শপথ নেন, সেটাই দেখার।