

অভিনেতা থেকে রাজনেতা ও সর্বশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থালাপতি বিজয় বা জোসেফ বিজয় কি ক্ষমতায় এসে আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে নিষিদ্ধ করেছেন? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি ফটোকার্ড ব্য়াপকভাবে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
ভাইরাল সেই ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, তামিলনাড়ুতে আরএসএসকে ব্যান করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি। সেই ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, “তামিলনাডুতে RSS কে ব্যান করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি।”

পৃথক একটি ফটোকার্ডে একই দাবি করে সঙ্গে আরও লেখা হয়েছে, “তামিলনাডুতে RSS কে ব্যান করলেন মুখ্যমন্ত্রী
বিজয় থালাপতি। তাহলে এবার মানুষের একটাই দাবি। পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে খ্রিস্টান চ্যারিটি খ্রিস্টান মিশনারী খ্রিস্টান যত অ্যাক্টিভিটি আছে সবকিছু ব্যান করতে হবে।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল দাবিটি পুরোপুরি মিথ্যে। তামিলনাড়ুতে আরএসএসের বিরুদ্ধে এমন কোনও পদক্ষেপ থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি।
সত্য উদ্ঘাটন
তামিলনাড়ুর মতো কোনও বৃহৎ রাজ্যে যদি সত্যিই আরএসএসের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতো, যা কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির পৃষ্ঠপোষক সংগঠন হিসেবে পরিচিত, তবে নিশ্চিতভাবে জাতীয় রাজনীতির জন্য সেটা হবে বিরাট বড় ঘটনা। এবং এই নিয়ে জাতীয় এবং তামিলনাড়ুর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমেও একাধিক খবর প্রকাশ পাবে, এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু ইংরাজি ও তামিল ভাষায় নানা কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হলে এই সংক্রান্ত একটিও বিশ্বাসযোগ্য নিউজ রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। যা থেকে এই দাবির সত্যতা নিয়ে সংশয় জেগে যায়।
এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম ইন্ডিয়া টুডের চেন্নাইয়ের সাংবাদিক প্রমোদ মাধবের সঙ্গে। প্রমোদ আমাদের জানান যে, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি। তবে বিজয় যে আদর্শগতভাবে আরএসএস থেকে আলাদা, সে কথা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে বিজয় নিজেই একাধিকবার জানিয়েছিলেন, নিশ্চিত করেন প্রমোদ।
তবে আরএসএস-কে নিষিদ্ধ না করা হলেও ২০২২ সালে তামিলনাড়ুর তৎকালীন ক্ষমতাসীন স্ট্যালিনের ডিএমকে সরকার এই সংগঠনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে কিছু আপত্তি তুলেছিল। ২০২২ সালের অক্টোবরে মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তামিলনাড়ুর ৫০টি জায়গায় আরএসএস পদযাত্রার অনুমতি চাইলে, তৎকালীন এম. কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে সরকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সাম্প্রদায়িক অশান্তির আশঙ্কা দেখিয়ে অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। আরএসএস এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হলে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে অনুমতির নির্দেশ দেয়।
সরকার হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ভি. রামাসুব্রামানিয়ান ও বিচারপতি পঙ্কজ মিথালের বেঞ্চ তামিলনাড়ু সরকারের আবেদন পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালত মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আরএসএস-কে উন্মুক্ত রাজপথে মিছিলের সম্পূর্ণ অনুমতি দেয় এবং এর জেরে এপ্রিল মাসেই স্থগিত মিছিলগুলি সম্পন্ন হয়।
সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে ভাইরাল দাবিটি যে ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় ক্ষমতায় এসে আরএসএস (RSS)-কে নিষিদ্ধ করেছেন।
দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভাইরাল পোস্টটি ভিত্তিহীন।