

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোড বন্ধ থাকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে একটি মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় News 18 বাংলার একটি প্রতিবেদনের ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে যেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে একটি গেটে ভাঙচুরের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। ভিডিওটি পোস্ট করে বলা হচ্ছে যে, দিলীপ ঘোষের বাংলোতে হামলা চালানো হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “দিলীপ ঘোষের বাড়িতে হামলা / নামাজ পড়া নিয়ে কটুক্তি করা বাড়িতে হামলা করলেন জনগণে।” (ক্যাপশনের বানান অপরিবর্তিত)

একই ধরনের দাবিতে আরও অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট করেছেন যেগুলো এখানে, এখানে ও এখানে দেখা যাবে।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি অসত্য। দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক নামাজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাঁর বাংলোয় কোনও হামলা করা হয়নি। ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৩ সালের।
সত্য উদ্ঘাটন
News 18 বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও পাওয়া যায় যা ২০২৩ সালের ১৭ মে পোস্ট করা হয়েছিল। এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভিডিওটি তিন বছর আগেকার এবং সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের কুর্মি সমাজ সেই সময় দিলীপ ঘোষের বাড়িতে হামলা চালায়। কুর্মি সমাজের নেতারা দিলীপ ঘোষের জামা-প্যান্ট খুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। সেই সময় এই সম্পর্কিত খবর এবিপি আনন্দ ও আনন্দবাজার ডট কমেও প্রকাশিত হয়েছিল।
সেই খবরগুলি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় কুর্মিদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কুড়মিদের জন্য কী করেছেন? পাল্টা দিলীপও দাবি করেন, খেমাশুলিতে আন্দোলনের তিনি কুড়মি নেতাদের নানা ভাবে সাহায্য করেছিলেন। দিলীপের এই মন্তব্যেরও বিরোধিতা করে কুড়মি সমাজ। তার প্রেক্ষিতে সোমবার দিলীপ বলেন, ‘‘ওরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে সব ক’টা নেতার কাপড় খুলে দেব। দিলীপ ঘোষের পিছনে যেন লাগতে না আসে।’’
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ১৭ মে দিলীপ ঘোষের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেন কুর্মিরা। যা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে এই ভিডিওটির কোনও সম্পর্ক নেই।
নামাজ নিয়ে কী বলেছিলেন দিলীপ?
গত মে মাসে ইদ উল আদা-র সময় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে নামাজ পড়া বন্ধ করে ব্রিগড প্যারেড ময়দানে নামাজের ব্যবস্থা করেছিল বর্তমান বিজেপি সরকার। তবে ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসার কারণে বিগত সাত দিন ধরে সেই রেড রোড আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে। এই নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে।
তখন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এলে তো সব রাস্তাই বন্ধ হয়। খালি রেড রোড কেন, উনি যেখানে যাবেন সেখানে বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল কম ওখানেই করেছে। ছুটির দিন ওখানে কম লোক যাবে। সেই জন্য ওখানেই করেছে নাহলে তো আরও সমস্যা হতো।… আর ১৫ মিনিটের জন্য (নামাজ প্রসঙ্গে) কতক্ষণ আটকানো হবে? ওনারা কে, হরিদাস পাল! যে তাদের জন্য রাস্তা আটকানো হবে। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, এদের জন্য আটকাবে। ঠিকই আছে। বছরে তো একবার উনি (প্রধানমন্ত্রী) আসছেন। ১০৭ বছর ধরে তো অন্যায় করা হয়েছে। এক বছরে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশে, পাকিস্তান চলে যান নামাজ পডুন কেউ কিছু বলবে না। এখানে চলবে না এসব।”

নামাজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বাংলোয় হামলা চালানো হয়েছে।
ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়। এটি ২০২৩ সালের ১৭ মে-র ঘটনা, যখন কুর্মি সমাজের সদস্যরা দিলীপ ঘোষের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেছিলেন।