

পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইস্কন পোষিত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে যেহেতু ইস্কন পোষিত সংস্থা এই দায়িত্ব পেয়েছে, ফলে শিশুদের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ পড়বে, সেই বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের প্রচার শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের একাংশ বেশ কিছু ভিডিও শেয়ার করে দাবি করছেন, ইস্কন ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের নিরামিষ অথচ সুস্বাদু ও লোভনীয় খাবার পরিবেশন করতে শুরু করেছে। এই ধরনের দাবিতে শেয়ার হওয়া তিনটি ভিডিও চিহ্নিত করেছে ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক।
প্রথম ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোনও একটি স্কুলে বাচ্চাদের লুচি, কাবলি ছোলার ঘুঘনি ও ল্যাংচা খেতে দেওয়া হয়েছে। যা পেয়ে তারা খুশি। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “ইস্কনের দারা পরিচালনা, "মিড ডে মিলের" পাইলট প্রজেক্ট, তাতেই ছেলেরা খুব খুশি আগামী দিনে সমস্ত স্কুলে এই ভাবে মিড ডে মিল চালু হবে, জয় শ্রী রাম,, ভারত মাতা কি জয়।”

দ্বিতীয় ভিডিওতে পড়ুয়াদের পোলাও, বেগুনি, আলুর দম, চাটনি-সহযোগে খাবার দিতে দেখা যাচ্ছে। সেই ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “ডিম ছাড়াই ইস্কনের দেওয়া মিড ডে মিল-- বাচ্চাদের খুবই আনন্দ- যাঁরা ডিম নিয়ে চেঁচাচ্ছিলেল দেখুন বাচ্চাদের খুশি মুখ।”

তৃতীয় ভিডিওতে স্কুল পড়ুয়াদের ছোট আকৃতির বাটার নান ও ঘুঘনি পরিবেশন করতে দেখা যাচ্ছে।এই ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “ইসকনের মিড ডে মিল স্কুলে দেওয়া হচ্ছে।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওগুলি পুরনো, এবং মুখ্যমন্ত্রীর মিড-ডে মিল সংক্রান্ত ঘোষণার আগেকার। এই ভিডিওগুলির সঙ্গে ইস্কনের মিড-ডে মিল দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।
সত্য উদ্ঘাটন
প্রথম ভিডিও, যেখানে স্কুলে বাচ্চাদের লুচি, কাবলি ছোলার ঘুঘনি ও ল্যাংচা খেতে দেখা যাচ্ছে, সেই ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও Gopalnagar Hpi নামের একটি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। গত ১৮ জুন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। ভিডিওটির উপর গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনের নাম লেখা ছিল।

এর থেকে দুটো বিষয় স্পষ্ট হয়। প্রথমত, ভিডিওটি কলকাতার কোনও স্কুলের নয়। কেননা, এই স্কুলটি উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর এলাকায় অবস্থিত। মনে রাখতে হবে শুভেন্দু অধিকারী প্রাথমিকভাবে এই পাইলট প্রজেক্ট শুধুমাত্র কলকাতার স্কুলগুলির জন্য ঘোষণা করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, এই ভিডিওটি মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার আগেকার। কারণ শুভেন্দু অধিকারী গত ২২ জুন এই ঘোষণা করেন।
Gopalnagar Hpi নামের ওই ফেসবুক পেজের পোষ্টে #শতবর্ষেরআলোয়গোপালনগরহরিপদইনস্টিটিউশন হ্যাশট্যাগ লিখেও শেয়ার করা হয়েছিল। যা থেকে অনুমান করা যায় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে স্কুলের শতবার্ষিকী উপলক্ষে এই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ওই ফেসবুক পেজ থেকে গত ২৭ জুন একটি পোস্ট করে লেখা হয় যে স্কুলের তত্ত্বাবধানেই আয়োজন করা হয়েছিল এই ভোজনের। যা বর্তমানে নানা বিভ্রান্তিকর দাবিতে শেয়ার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ভিডিও, যেখানে স্কুলের শিশুদের পোলাও, বেগুনি, আলুর দম, চাটনি-সহযোগে খাবার দিতে দেখা যাচ্ছে, সেই ভিডিওটি একই ভাবে খোঁজা হলে আসল ভিডিওটি Nabadwip Hindu School নামের ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। আসল ভিডিওটি ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা হয়। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ছাত্রদের মুখেই শুনে নিই - সরস্বতী পুজোর ছাত্রভোজে তারা কেমন খাওয়া দাওয়া করলো?”

এর থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় ভিডিওটির সঙ্গ ইস্কনের দিতে চলা মিড ডে মিলের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ ভিডিওটি ২০২৫ সালের সরস্বতী পুজোয় স্কুলে হওয়া ভোজনের।
তৃতীয় ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্কুলের পড়ুয়াদের বাটার নান পরিবেশন হতে। সার্চ করে দেখা যায়, আসল ভিডিওটি Bardakanta Bidyapith - Primary নামের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয় গত ১০ জুন। অর্থাৎ, এই ভিডিওটিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার আগেকার। এই স্কুলটি শিলিগুড়িতে অবস্থিত।

প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী এই পাইলট প্রজেক্টের দায়িত্ব ইস্কন পোষিত সংস্থার হাতে তুলে দিলেও সেই প্রকল্পের অধীনে খাবার সরবরাহ এখনও শুরু করা হয়নি। এই বিষয়ে ইস্কনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা জানান, এই কাজের সূচনা করতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগবে।
সবমিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভাইরাল ভিডিওগুলির সঙ্গে ইস্কনের দেওয়া মিড-ডে মিলের কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওগুলি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার আগেকার এবং অসম্পর্কিত।
…………………………………………………………………………………………………………
Claim Made By-Social Medis Users
Claim Link-
Claim Date- June 27, 2026
Rating-False
Claim- ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ইস্কন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল হিসেবে লুচি-ঘুঘনি, পোলাও-বেগুনি, বাটার নান-সহ সুস্বাদু নিরামিষ খাবার পরিবেশন শুরু করেছে।
Fact- ভাইরাল তিনটি ভিডিওই পুরনো এবং মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতার স্কুলে ইস্কন পরিচালিত মিড-ডে মিল পাইলট প্রকল্প ঘোষণার আগের। এগুলি বিভিন্ন স্কুলের পৃথক অনুষ্ঠানের ভিডিও, ইস্কনের মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।

ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ইস্কন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল হিসেবে লুচি-ঘুঘনি, পোলাও-বেগুনি, বাটার নান-সহ সুস্বাদু নিরামিষ খাবার পরিবেশন শুরু করেছে।
ভাইরাল তিনটি ভিডিওই পুরনো এবং মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতার স্কুলে ইস্কন পরিচালিত মিড-ডে মিল পাইলট প্রকল্প ঘোষণার আগের। এগুলি বিভিন্ন স্কুলের পৃথক অনুষ্ঠানের ভিডিও, ইস্কনের মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।