

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে লাঠি হাতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে কোনও একটি অফিসে এবং অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রঙের গাড়িতে ভাঙচুর চালাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে দলীয় কর্মীদের থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বিহারে বিজেপি বিধায়কের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন দলেরই (বিজেপি) কর্মী-সমর্থকরা।
উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “বিহারে বিজেপি বিধায়কের গাড়ি ভাঙচুর করছে বিজেপির কার্যকর্তা বিজেপি নাকি বিজেপির কার্যকর্তাদের থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে বিহার কিংবা নিয়োগ দুর্নীতির জেরে বিজেপি বিধায়কের গাড়িতে হামলার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ৭ মে তেলেঙ্গানার করিমনগরে বিজেপি কর্মীদের তরফে স্থানীয় বিআরএস বিধায়ক গাঙ্গুলা কমলাকরের দফতরে হামলা চালানোর দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৭ মে DD News Telangana-র অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-র ক্লিপ-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, করিমনগরে বিআরএস বিধায়ক গাঙ্গুলার কার্যালয়ে আসা অপর বিআরএস বিধায়ক কৌশিক রেড্ডির গাড়িতে হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। এমনকি কৌশিকের উপরে হামলার চেষ্টাও করা হয়।
కరీంనగర్ ఎమ్మెల్యే క్యాంపు కార్యాలయం వద్ద ఉద్రిక్తత!
— DD News Telangana | తెలంగాణ న్యూస్ (@ddyadagirinews) May 7, 2026
🔹 బీఆర్ఎస్ ఎమ్మెల్యే పాడి కౌశిక్రెడ్డిపై దాడి
🔹 ఎమ్మెల్యే గంగుల కార్యాలయానికి వచ్చిన కౌశిక్ రెడ్డిపై బీజేపీ శ్రేణుల దాడి యత్నం.
🔹 కౌశిక్ రెడ్డి కారు అద్దాలు, కార్యాలయ ఫర్నిచర్ను ధ్వంసం చేసిన నిరసనకారులు.… pic.twitter.com/26uFfRqph0
এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এই একই ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেইসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৭ মে তেলেঙ্গানার করিমনগরের বিআরএস বিধায়ক গাঙ্গুলা কামালাকরের ক্যাম্প অফিসে হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। মূলত, ওইদিন দলীয় বিধায়ক গাঙ্গুলা কামালাকরের অফিস থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন হুজুরাবাদের অপর এক বিআরএস বিধায়ক পাডি কৌশিক রেড্ডি।
আসলে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার বিআরএস-এর কার্যকারী সভাপতি কে.টি. রামা রাওকে মাদক আসক্ত বলে দাবি করে তাঁকে ড্রাগ টেস্ট করানোর চ্যালেঞ্জ জানান। এই মন্তব্যের জবাবে ৭ মে করিমনগরে বিধায়াক গাঙ্গুলার কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিআরএস বিধায়ক কৌশিক রেড্ডি উল্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমারকে মাদক সেবনকারী বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, মাদকের সঙ্গে তামাক মিশিয়ে খাওয়ার জন্য সঞ্জয় কুমারের চুল পড়ে গেছে। পাশাপাশি, তিনি কে.টি. রামা রাওয়ের সঙ্গে সঞ্জয় কুমারকেও ড্রাগ টেস্ট করানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। আর দলীয় নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে করা তার এই মন্তব্যের পরেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বিধায়ক গাঙ্গুলার কার্যালয়ে উপস্থিত হয় এবং প্রথমে তারা কৌশিক রেড্ডি গাড়িতে ও পরর্তীতে গাঙ্গুলার অফিসে ভাঙচুর চালায়।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বিহারে দলীয় কর্মীদের হাতে আক্রান্ত বিজেপি বিধায়ক দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে তেলেঙ্গানার ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে দলীয় কর্মীদের থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বিহারে দলীয় কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত বিজেপি বিধায়ক।
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে বিহার কিংবা নিয়োগ দুর্নীতির জেরে বিজেপি বিধায়কের গাড়িতে হামলার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি তেলেঙ্গানার করিমনগরে বিজেপি কর্মীদের তরফে স্থানীয় বিআরএস বিধায়ককের দফতরে হামলা চালানোর দৃশ্য।