

বুধবার রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় দভার বিধানসভা ভোট। বিক্ষিপ্ত কয়েকটি সংঘর্ষ এবং অশান্তির ঘটনা ছাড়া মোটের উপরে শান্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন। প্রথম দফায় রাজ্যে রেকর্ড প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়লেও, ভোটের দিন রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণহানির কোনও ঘটনা ঘটেনি। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও।
যেখানে মুখে মাস্ক এবং মাথায় ফেজ টুপি পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তিকে লাঠি ও অস্ত্র-সহ একটি বিল্ডিংয়ের গেটের সামনে কয়েকজনের উপরে হামলা চালাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসিত পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মাঝেই সাধারণ হিন্দুদের উপরে অস্ত্র-সহ হামলা চালিয়েছে জিহাদি মুসলিমরা। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ক্লিপটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের সনাতনীরা চরম বি*প*দে*র মুখে! তাই ২০২৬ সনাতনীদের জন্য শে*ষ নির্বাচন!”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, এমনকি সেটি ভারতেরও নয়। বরং সেটি চাঁদার দাবিতে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ বাংলাদেশের সাভার উপজেলার আশুলিয়ার গণকবাড়ি এলাকায় একটি মাদ্রাসাতে হামলার দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১১ মার্চ বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি ফেসবুক পেজে এই একই ভিডিও-র একটি বর্ধিত সংস্করণ-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “শিক্ষাঙ্গনে স'ন্ত্রাসের কালো থাবা! আশুলিয়ায় দারুল ইহসান মাদ্রাসায় দ'খলের চেষ্টা ও ভা'ঙচুর।” পাশাপাশি, ভিডিও-র একটি ফ্রেমে মাদ্রাসার গেটের উপরে লাগানো ব্যানারে ‘কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদরাসা’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়।

এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে, ২০২৬ সালের ৯ মার্চ বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বৈশাখী টেলিভিশনের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘সাভারে দারুল ইহসান মাদ্রাসায় হা'ম'লা’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। সেই সিসিটিভি ফুটেজে থাকা হামলাকারীদের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা হামলাকারীদের হুবহু মিল পাওয়া যায়। পাশাপাশি, প্রতিবেদনে প্রকাশিত মাদ্রাসার গেটের দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মাদ্রাসাটির গেটের দৃশ্যেরও হুবহু মিল রয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভাইরাল ভিডিওটি এই একই ঘটনার।
পরবর্তী এই সংক্রান্ত আরও অনুসন্ধান চালালে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম আজকের পত্রিকা এবং দৈনিক ইনকিলাবে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৯ মার্চ বাংলাদেশের সাভার উপজেলার আশুলিয়ার গণকবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দারুল ইহসান ট্রাস্ট পরিচালিত ‘তাহ্ফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা’ হামলা চালায় ৫০-৬০ জন দুষ্কৃতী। মূলত চাঁদা আদায় এবং মাদ্রাসার জমি দখলের লক্ষ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের তরফে মাদ্রাসা কতৃপক্ষের উপরে এই হামলা চালানো হয়।
পরবর্তী আশুলিয়া থানার পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতী পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের তরফে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি, আমরা গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউতে বাংলাদেশের সাভার উপজেলার আশুলিয়ার গণকবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘তাহ্ফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা’টি খুঁজে বার করি। গুগল ম্যাপে প্রাপ্ত মাদ্রাসাটির ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও-র ফ্রেমের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের উপর অত্যাচার দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশের অসম্পর্কিত ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসিত পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মাঝেই সাধারণ হিন্দুদের উপরে অস্ত্র-সহ হামলা চালিয়েছে জিহাদি মুসলিমরা।
ভাইরাল ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়। বরং সেটি চাঁদার দাবিতে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ বাংলাদেশের সাভার উপজেলার আশুলিয়ার গণকবাড়ি এলাকায় একটি মাদ্রাসাতে হামলার দৃশ্য।