

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ, ভারত ছাপিয়ে গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলেছিল সেই সময়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তির মৃতদেহের ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, দীপু দাসের হত্যাকারী শাহাদাত নামের ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।
ভাইরাল হওয়া এই পোস্টে এক ব্যক্তিকে একটি ছাদের পাশে থাকা ইলেকট্রিক তারে আটকে নিথর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “দীপু দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল যে আব্দুল শাহাদাতরা আজ পাবনায় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন, বয়স ছিল ৩০ বছর। হাই ভোল্টেজ কারেন্টের তারে নির্মম ভাবে প্রাণ গেল শাহাদাতের। সমগ্র বিশ্ব বলছে ঘটনা হৃদয়বিদারক কিন্তু ভালো লাগছে ভগবান এদের বিচার করছে। দীপু দাসের হত্যাকারীদের ভগবান এক এক করে বিচার করছে!”

ছবির উপরেও লেখা হয়েছে, “দীপু দাসকে পুড়িয়ে মেরেছিল যারা সেই হাসান শাহাদাত আজ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ছবিটি সম্প্রতি পাবনায় ঘটা একটি দুর্ঘটনার। এর সঙ্গে দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের কোনও সম্পর্ক নেই।
সত্য উদ্ঘাটন
ভাইরাল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্যে খোঁজা হলে ওই একই ঘটনার একটি ছবি পাবনা মিডিয়া নামের একটি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়।
সেই পেজের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বাংলাদেশের পাবনা জেলার আটঘরিয়ার দেবোত্তর বাজারে ঘটে যেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহাদাত নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে BDNews24.com ও কালের কণ্ঠর মতো একাধিক বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট পাওয়া যায়।
সেই রিপোর্টগুলি থেকে জানা যায়, গত ১৮ জুন পাবনার আটঘরিয়ার দেবোত্তর বাজার এলাকায় একটি ভবনের ছাদে জমে থাকা জল সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩০ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত শাহাদাত হোসেন চাঁদভা ইউনিয়নের কদমডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. জব্বার হোসেনের ছেলে।
ঘটনাটি সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ভবনের ছাদে ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ছাদে জমে থাকা পানি সরানোর সময় ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মূল লাইনের সংস্পর্শে চলে আসেন শাহাদাত। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আটঘরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে। মৃত ব্যক্তি কদমডেঙা গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবোত্তর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আকুল স্টোর’ এর কর্মী ছিলেন।
চলতি বছর ৮ জানুয়ারির ডেইলি স্টারের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে ওই হত্যাকাণ্ডে পাবনা জেলার শাহাদাত হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে আজতক ফ্যাক্ট চেক বাংলাদেশের ফ্যাক্ট-চেকার তানভীর মাহতাব আবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলেন। জবাবে আল মামুন জানান, দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মৃত যুবকের কোনও যোগাযোগ রয়েছে, এরকম কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। ফলে দাবিটি যে ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন, এখনও পর্যন্ত সেটা বলাই যায়।
সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে, পাবনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মারা যাওয়ার একটি ঘটনাকে কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জুড়ে এই ঘটনায় অভিযুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, যা ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন।

দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাত নামে এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।
ভাইরাল দাবিটি মিথ্যা। ছবিতে দেখা ব্যক্তি পাবনার শাহাদাত হোসেন, যিনি ছাদে জমে থাকা জল সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।