scorecardresearch
 

ফ্যাক্ট চেক: কাতার বিশ্বকাপ নয়, স্টেডিয়ামে আগুনের ভাইরাল ভিডিয়োটি ৪ বছর আগে বুন্দেসলিগার

ভিডিয়োটি ফেসবুকে শেয়ার করে একজন লিখেছেন, "বিশ্বকাপ খেলার মাঠে ভয়াবহ আগুন। আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। পুরো কাতার জুড়ে রেড এলার্ট জারি।"

স্টেডিয়ামে আগুন স্টেডিয়ামে আগুন

প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে কাতারে শুরু হয়েছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। বড় দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছে তুলনামূলক ছোট দলগুলোও। কাতার থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অনুরাগীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে একের পর এক ভিডিয়ো। এরই মধ্যে একটি ভিডিয়ো নজর কেড়েছে। যেটা শেয়ার করে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেছে যে, কাতার বিশ্বকাপের কোনও একটি স্টেডিয়ামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

ভিডিয়োটি ফেসবুকে শেয়ার করে একজন লিখেছেন, "বিশ্বকাপ খেলার মাঠে ভয়াবহ আগুন। আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। পুরো কাতার জুড়ে রেড এলার্ট জারি।" (বানান অপরিবর্তিত)

যদিও ইন্ডিয়া টুডে অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফয়া) তদন্ত করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিয়োটির সঙ্গে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এর কোনও যোগ নেই। বরং ভাইরাল ভিডিয়োটি চার বছরের পুরনো। সেই ভিডিয়োটি বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে বর্তমানে শেয়ার করা হচ্ছে এবং দাবি করা হচ্ছে, এটি কাতার বিশ্বকাপের কোনও একটি স্টেডিয়ামে আগুন লাগার ঘটনা। 

আফয়া তদন্ত

ভাইরাল ভিডিয়োটির একটি কিফ্রেমের রিভার্স সার্চ করলে আমরা একটি ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিয়োর সন্ধান পাই। চার বছর আগে যা আপলোড করা হয়েছিল। সেখানে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চার বছর আগে Hamburger SV এবং Borussia Mönchengladbach -এর মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। 

এই ভিডিয়ো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের কিওয়ার্ড সার্চ করলে আমরা theguardian.com -এর একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাই। 'Hamburg suffer historic relegation and leave Bundesliga with a bang' শিরোনামে ওই প্রতিবেদনটি ২০১৮ সালের ১২ মে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন বুন্দেসলিগার ম্যাচে বরুসিয়া মনচেঙ্গলাদবাচের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল হামবুর্গ। ম্যাচটি ২-১ স্কোরে জয়ী হয়েছিল তারা। কিন্তু এরপরও বুন্দেসলিগা থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল দলটি। সেই ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাগে হামবুর্গ সমর্থকরা মাঠে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়।

 ২০১৮ সালের ১২ মে একই খবর প্রকাশিত হয়েছিল express.co.uk এবং thenationalnews.com -এর  অনলাইন এডিশনেও। 

এছাড়া DW Kick off! নামের একটি ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলেও আমরা ভাইরাল ভিডিয়োটি দেখতে পাই।

সুতরাং সমস্ত তথ্য প্রমাণ বিচার করে এটা বলা যায় যে, স্টেডিয়ামে অগ্নিকাণ্ডের ভাইরাল ভিডিয়োটির সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনও যোগ নেই। সেটি কাতার বিশ্বকাপের ঘটনা নয়। বরং চার বছর আগে বুন্দেসলিগায় এই ঘটনাটি ঘটেছিল।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook

দাবি

বিশ্বকাপ খেলার মাঠে ভয়াবহ আগুন। আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। পুরো কাতার জুড়ে রেড এলার্ট জারি।

ফলাফল

স্টেডিয়ামে অগ্নিকাণ্ডের ভাইরাল ভিডিয়োটির সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনও যোগ নেই। সেটি কাতার বিশ্বকাপের ঘটনা নয়। বরং চার বছর আগে বুন্দেসলিগায় এই ঘটনাটি ঘটেছিল।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদের সংখ্যা 73 7000 7000 উপর পাঠান.
আপনি আমাদের factcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন