

যুদ্ধবিরতি শেষ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হতেই ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ় প্রণালীতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেছে আমেরিকা। চারবাহার-সহ একসঙ্গে ইরানের মোট ৯টির বেশি শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ।
অন্যদিকে আমেরিকার আগ্রাসনের জবাব দিতেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালায় তেহরান। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও। যেখানে কোনও একটি সেনাঘাঁটি বা বিমান বন্দরে একেরপর এক বিমান হামলা হতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি যে ব্যালকনি থেকে রেকর্ড করা হয়েছে সেখানে আমেরিকার দুটি জাতীয় পতকা উড়তে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি ইরানের তরফে কাতারের আল উদেইদ মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটিতে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন রাডারকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই বিস্ফোরণটি ঘটে, যা কাছাকাছি থাকা একটি এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং একটি কেসি-১৩৫ বিমানকেও আঘাত করে।" এমনকি ABP Telugu-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের তরফে এই একই দাবি-সহ ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যদিও এটা সত্যি যে ইরান সম্প্রতি কাতারের আল-উদেইদ-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওটি সেই হামলার নয়, বরং সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১০ মার্চ এই একই দাবিতে অর্থাৎ কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দৃশ্য দাবিতে একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-র একটি স্পষ্ট সংস্করণ পাওয়া যায়। যা থেকে বোঝা যায় ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের নয়। এরপর ওই এক্স হ্যান্ডেলে প্রপ্ত ভাইরাল ভিডিওটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে আমরা সেটিতে একাধিক অসঙ্গতি দেখতে পাই।
প্রথমত, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা আমেরিকার দুটি জাতীয় পতকার কিনারাগুলি বিকৃত। দ্বিতীয়ত, এত বড় বিস্ফোরণ ঘটা সত্ত্বেও ভিডিওতে থাকা হেডফোন বা হেলমেটের মতো কাছের বস্তুগুলোর আলো অপরিবর্তিত থাকতে দেখা যায়। যা বাস্তব বিস্ফোরণের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রয় অসম্ভব। তৃতীয়ত, এত বড় বিস্ফোরণের পরেও ভাইরাল ভিডিও-র অডিওটিও অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট, যা সাধারণত এই মাত্রার বিস্ফোরণের সময় প্রত্যাশিত নয়।

আর উপরে উক্ত এই সব অসঙ্গতি বা বৈশিষ্ট্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা কোনও ভিডিও তৈরি করা হলে তাতে লক্ষ্য করা যায়। তবে বিষয়টি সম্পর্কে একশো শতাংশ নিশ্চিত হতে এরপর আমরা ভাইরাল ছবিটিকে Hive Moderation নামক এআই যাচাইকারী ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করি। ওয়েবসাইটি ৯২.৯ শতাংশ নিশ্চিতভাবে জানিয়েছে যে ভাইরাল ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

তবে এখানে উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই, শুক্রবার রাতে কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের তরফে দাবি করা হয়, এই হামলার জেরে একটি দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা ও বেশ কয়েকটি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী মার্কিন বিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে সেই হামলার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির কোনও সম্পর্ক নেই।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, কাতারের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলা দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কাতারের আল উদেইদ মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য।
যদিও এটা সত্যি যে ইরান সম্প্রতি কাতারের আল-উদেইদ-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওটি সেই হামলার নয়, বরং সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি।