

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল নিয়ে বছরের বেশিরভাগ সময় ভারত-চিন সীমান্তে উভয় দেশের সেনাদের মধ্যে লেগে থাকে উত্তেজনা। এরই মধ্যে সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে নতুন করে চিনা সেনাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় একটি আদিবাসী সংগঠন। ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (এনডব্লিউএস) নামক ওই সংগঠনটি দাবি করেছে, বিগত কয়েক বছরে রাজ্যের সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় ধীরে ধীরে ভারতীয়দের জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে চিন।
এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে দুটি ভিন্ন ভিডিও। ভিডিও দুটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, অরুণাচল প্রদেশের ভারত-চিন সীমান্তে চিনা সেনাবাহিনী ভারতীয় সৈন্যদের আটক করেছে। যেখানে প্রথম ভিডিওতে চিনের কয়েকজন বন্দুকধারী জওয়ানের সামনে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছেন দু’জন ভারতীয় জওয়ান। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল প্রথম ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “চীন-ভারত সিমান্তে চরম উত্তেজনা দুই ভারতীয় সেনাকে আটক করেছে চীনা সেনারা।।"

অন্যদিকে দ্বিতীয় ভিডিওতে চিনা সেনাদের সামনে কান ধরে ওঠবস করতে দেখা যাচ্ছে অপর দু’জন বিএসএফ জওয়ানকে। দ্বিতীয় ক্লিপটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আত্মসমর্পণ করে চীনা সেনার সামনে কান ধরে উঠাবসা করছে ভারতীয় দুই বিএসএফ।"

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিও দুটি কোনও বাস্তব ঘটনা নয়। বরং সেগুলি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
সত্য উন্মোচন
প্রথম ভিডিও: ভাইরাল প্রথম ভিডিওটি নিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় আমরা সেটিতে একাধিক অসঙ্গতি দেখতে পাই। প্রথমত, ভিডিও ক্লিপটিতে যে দু’জন ভারতীয় জওয়ানকে দেখা যাচ্ছে তাদের উভয়ের মুখের আকৃতি থেকে চেহারার গঠন অভিন্ন। দ্বিতীয়, তাদের কাঁধে থাকা ব্যাজগুলোর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবহিনীর জওয়ানদের কাঁধের ব্যাজের কোনও মিল নেই। তৃতীয়ত, ভিডিও-র ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক চিনা সেনার ইউনিফর্মে চিনের পতাকার আকার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বড়। পাশাপাশি, সেখানে উপস্থিত সকল চিনা জওয়ানদের মুখের অকৃতি অস্পষ্ট ও ঝাপসা।
এই ধরণের অসঙ্গতিগুলি সাধারণত কোনও এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ভিডিওতে লক্ষ্য করা যায়। যা থেকে সন্দেহ হয় যে ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হতেও পারে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে একশো শতাংশ নিশ্চিত হতে এরপর আমরা ভাইরাল ভিডিওটিকে এআই যাচাইকারী ওয়েবসাইট Hive Moderation এবং গুগলের নিজস্ব এআই যাচাইকারী টুলস Synth ID-তে পরীক্ষা করি। Hive Moderation ৯৯.৮ শতাংশ নিশ্চিতভাবে জানিয়েছে যে ভাইরাল ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, Synth ID-ও জানিয়েছে, “ভিডিওটি গুগল এআই-এর সাহায্যে এডিট বা তৈরি করা হয়েছে।”

দ্বিতীয় ভিডিও: ভাইরাল দ্বিতীয় ক্লিপটিতেও আমরা প্রথম ক্লিপের মতো একই রকম সব অসঙ্গতি খুঁজে পাই। আর এক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলি থেকে সন্দেহ হয় যে দ্বিতীয় ভিডিও ক্লিপটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হতেও পারে। তবে এবারও বিষয়টি সম্পর্কে একশো শতাংশ নিশ্চিত হতে এরপর আমরা ভাইরাল ভিডিওটিকে প্রথমে এআই যাচাইকারী ওয়েবসাইট Hive Moderation এবং এবং পরবর্তীতে গুগলের নিজস্ব এআই যাচাইকারী টুলস Synth ID-তে পরীক্ষা করি। Hive Moderation ৯৯.৯ শতাংশ নিশ্চিতভাবে জানিয়েছে যে ভাইরাল ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, Synth ID এক্ষেত্রেও জানিয়েছে যে, “ভাইরাল দ্বিতীয় ভিডিওটি গুগল এআই-এর সাহায্যে এডিট বা তৈরি করা হয়েছে।”

তবে এখানে উল্লেখ্য, ভারত-চিন সীমান্তে উভয় দেশের জওয়ানদের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে প্রায়ই উত্তেজনা লেগে থাকে। তাই প্রকৃতপক্ষে এমন কোনও ঘটনা আদেও ঘটেছে কিনা তা আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়নি। তবে এটা নিশ্চিত যে ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ দুটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারত-চিন সীমান্তে চিনা সেনাবাহিনী ভারতীয় সৈন্যদের আটক করেছে।
ভাইরাল ভিডিও দুটি কোনও বাস্তব ঘটনা নয়। বরং সেগুলি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।