ফ্যাক্ট চেক: মাইকে আজান দেওয়ায় ভারতে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দাবিতে ছড়াল বাংলাদেশের ভিডিও

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় বিএনপি সাংসদ এবং নির্দল প্রার্থীর অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: মাইকে আজান দেওয়ায় ভারতে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দাবিতে ছড়াল বাংলাদেশের ভিডিও

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে মসজিদে লাউডস্পিকারে মাইক বাজানো বা আজান দেওয়ার বিরোধিতা করা হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের তরফেও একাধিক স্থানে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলতে বা লাউডস্পিকার বাজাতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কোনও একটি স্থানে বহুসংখ্যক মানুষকে হাতে লাঠি নিয়ে মারপিট করতে দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার কারণে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ক্যাপশন এবং ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “ভারতে মাইকে আজান দেওয়া মুসলমানের বাড়িতে আগুন।” 


আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় বিএনপি সাংসদ এবং নির্দল প্রার্থীর অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম বৈশাখী টেলিভিশনের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই একই ভিডিও-র বর্ধিত সংস্করণ-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টের শিরোনাম উল্লেখ করা হয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের দৃশ্য।

এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় বিএনপি সাংসদ এম.এ হান্নানের অনুগামী তথা বিএনপি নেতা রহিম তালুকদার সমর্থকদের সঙ্গে নির্দল প্রার্থী কে.এম কামরুজ্জামান মামুনের অনুগামী কাশেম মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের দু’জনের মৃত্যু হয়।

Advertisement

মূলত, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে হিংসা ছড়ানো এবং অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করে তাকে ১০ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। জিয়াউর রহমানকে আটকের পিছনে নির্দল প্রার্থী কে.এম কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক শিশু মিয়ার জড়িত থাকার সন্দেহে দু’পক্ষের মধ্যে এই বিবাদের ঘটনার শুরু হয়। এবং পরবর্তীতে একাধিক দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। ২৪ মার্চের এই বিবাদের জেরে উভয় পক্ষের দু’জন যথাক্রমে হাবিবুর রহমান ও আক্তার মিয়ার মৃত্যু হয় এবং ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তি আহত হয়।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার কারণে মুসলিমদের বাড়িতে হিন্দুত্ববাদীদের আগুন দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক হিংসার ভিডিও।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার কারণে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় বিএনপি সাংসদ এবং নির্দল প্রার্থীর অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement