ফ্যাক্ট চেক: উত্তর প্রদেশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে যুবককে নির্মমভাবে মারধর দাবিতে ছড়াল বিহারের ভিডিও

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি উত্তর প্রদেশের নয়, বরং সেটি বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার বাহাদুরগঞ্জ থানার ঝাঁসি রানী চক এলাকার ঘটনা। কিষাণগঞ্জ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নিগৃহীত যুবক এবং অভিযুক্তরা সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: উত্তর প্রদেশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে যুবককে নির্মমভাবে মারধর দাবিতে ছড়াল বিহারের ভিডিও

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকজনকে গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি সঙ্গে এক যুবকের হাত-পা বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করেত দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে নিগৃহীত যুবক যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে হাত জোড় করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রার্থনা করলেও থামেনি অত্যাচার।

ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি বিজেপি তথা যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তর প্রদেশে চোর সন্দেহে এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে মারধর করেছে হিন্দু রক্ষক বাহিনীর সদস্যরা। উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “দেখ আইনের তোয়াক্কা না করে উত্তরপ্রদেশে চোর সন্দেহে হিন্দু যুবক কেই পেটাচ্ছে স্বঘোষিত হিন্দু রক্ষক বাহিনী।…” (সব বানান অপরিবর্তিত)

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি উত্তর প্রদেশের নয়, বরং সেটি বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার বাহাদুরগঞ্জ থানার ঝাঁসি রানী চক এলাকার ঘটনা। কিষাণগঞ্জ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নিগৃহীত যুবক এবং অভিযুক্তরা সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের।  

সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে

ভাইরাল দাবি ও ভিডিওর সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই একই ভিডিও-সহ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাটি বিহারের কিষাণগঞ্জের বাহাদুরগঞ্জ থানা এলাকার ঘটনা। পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিওর নিগৃহীত যুবকের নাম মাসুম আলম রাজা। ১৮ বছর বয়সী ওই যুবক কিষাণগঞ্জ জেলার লোহাগড়ার বাসিন্দা।

প্রতিবেদনে নিপীড়িত যুবকের বাবা নূর আলম উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, গত ১৬ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি তার ছেলে মাসুম আলম রাজাকে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এরপর তাকে বাহাদুরগঞ্জ থানার ঝাঁসি রানী চক এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং ৩২৭ই নম্বর জাতীয় সড়কের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তারা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মাসুমের হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে।

এরপর এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিওর স্ক্রিনশট-সহ প্রভাত খবরের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অগস্ট নিগৃহীত যুবক মাসুম আলম রাজাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে বাহাদুরগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহম্মদ ইজহার আশরাফ, তাকি এবং মজম-সহ মোট ১০-১৫ জন ব্যক্তি। এই ঘটনায় বাহাদুরগঞ্জ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

তবে অনুসন্ধানের সময় আমরা কোথাও এই ঘটনার সঙ্গে জাতিগত বা ধর্মীয় হিংসার কোনও তথ্য খুঁজে পাইনি। পাশাপাশি এফআইআর কপিটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করার পর  নিগৃহীত যুবক এবং অভিযুক্ত সকলের নাম দেখে আমাদের অনুমান যে এই ঘটনায় সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের। তবে এরপর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আমরা কিষাণগঞ্জের এসপি সাগর কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, “এই ঘটনার সঙ্গে জাতিগত বা ধর্মীয় বৈষম্যের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এই ঘটনায় নিগৃহীত যুবক এবং অভিযুক্তরা সকলেই মুসলিম। অভিযুক্তরা চুরির অভিযোগে ভাইরাল ভিডিওর যুবক মাসুম আলম রাজাকে মারধর করেছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করা হচ্ছে।" 

এর থেকে প্রমাণ হয় যে উত্তর প্রদেশের সঙ্গে মিথ্যে সম্পর্ক জুড়ে ছড়ানো হচ্ছে বিহারের ভিডিও।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি তথা যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তর প্রদেশে চোর সন্দেহে এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে মারধর করেছে হিন্দু রক্ষক বাহিনীর সদস্যরা।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি উত্তর প্রদেশের নয়, বরং সেটি বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার বাহাদুরগঞ্জ থানার ঝাঁসি রানী চক এলাকার ঘটনা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নিগৃহীত যুবক এবং অভিযুক্তরা সকলেই মুসলিম।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement