

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি শিশুকন্যার ছবি পোস্ট করে অনেকেই দাবি করছেন যে বাংলাদেশে এই ঘটনাটি ঘটেছে যেখানে এক হিন্দু কন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মেঘালয় ও ত্রিপুরায় একদা রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত থাকা তথাগত রায়, যিনি একসময় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন, তিনিও একই দাবি করেছেন। এই পোস্টে ওই শিশুকন্যার পাশাপাশি ক্ষেতের জমিতে পড়ে থাকা একটি মৃতদেহের ছবিও পোস্ট করা হয়েছে।

ছবি দুটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "বাংলাদেশে আরো একটি মর্মান্তিক হিন্দুহত্যার ঘটনা। ফুটফুটে এই বাচ্চা মেয়েটা ৫ দিন যাবত নিখোঁজের পর গতকাল তার অর্ধগলিত দেহ পাওয়া গেছে বাড়ির পাসের একটি পাট ক্ষেতে। বাবা মা স্পষ্ট বলে দিয়েছিল দরকার হলে বাড়ি বিক্রি করে দিবে যদি কেউ যদি সন্ধান দিতে পারে, কতটা নির্মম গ্রাম : চরমারিয়া, কিশোরগঞ্জ সদর | বাবা মা পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দান করুন।"
একই দাবিতে অনেকে ফেসবুকে এই দুটি ছবি পোস্ট করেছেন।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ছবিতে থাকা শিশুকন্যাটি হিন্দু নয় বরং মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিল। তবে তার মৃত্যুর তথ্য সঠিক।
সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে
এই পোস্টে থাকা শিশুকন্যার ছবিটি গুগল লেন্সের সাহায্যে খোঁজা হলে ওই একই ছবি পাওয়া যায় বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যম ডেইলি ইনকিলাবের একটি প্রতিবেদনে। খবরে লেখা হয়, বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে রোজা মনি নামের ওই শিশুকন্যাটি নিখোঁজ থাকার পাঁচদিন পর ক্ষেত থেকে তার পচা-গলা দেহ উদ্ধার করা হয়।
যদিও ওই প্রতিবেদনে নিহত শিশুকন্যাটির ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়ে পৃথকভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে গত ১১ জুলাই প্রকাশিত খবরে লেখা হয়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চর মারিয়া গ্রামের মোহাম্মদ সুমন মিয়ার মেয়ে। এর থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে নিহত শিশুকন্যার বাবা একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ ছিলেন। পাশাপাশি একই রিপোর্টে রোজা মনির ফুপাতো ভাইয়ের নামও নাইম মিয়া বলে উল্লেখ করা হয়।
সেই সঙ্গে ১১ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে লেখা হয় যে, মোহাম্মদ সুমন মিয়ার মেয়ে রোজামনি ৬ জুলাই বিকেলে বাড়ির সামনে রাস্তায় খেলা করছিল, তারপরই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনও সন্ধান মেলেনি। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর বাড়ির কাছে পাটক্ষেতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
আজকের পত্রিকা নামের আরেকটি বাংলাদেশ-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে মৃত শিশুকন্যার দাদির নাম গুলনাহার বেগম বলে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে জানানো হয়, এই ঘটনার পর রাসেল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় অভিভাবকেরা দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার আসল কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন।
সবমিলিয়ে বলাই যায় যে মুসলিম ধর্মাবলম্বী এক শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনাকে ভুয়ো ও সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে ছড়ানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এই পোস্টে যে শিশুকন্যাকে দেখা যাচ্ছে সে একজন হিন্দু সম্প্রতি তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মৃত শিশুকন্যাটির নাম রোজা মনি ও তার বাবার নাম মোহাম্মদ সুমন মিয়া। মেয়েটি মুসলিম ধর্মাবলম্বী।