ফ্যাক্ট চেক: নরেন্দ্র মোদীর সভায় চেয়ার ভাঙচুরের ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, বিহারের মোতিহারির

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি অর্থসত্য ও বিভ্রান্তিকর। এই ভিডিওটি দুর্গাপুরের সভার নয়। বরং বিহারের মোতিহারিতে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে ঘটনাটি ঘটেছিল। 

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: নরেন্দ্র মোদীর সভায় চেয়ার ভাঙচুরের ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, বিহারের মোতিহারির

১৮ জুলাই দুর্গাপুরে সভার মধ্যে দিয়েই আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বের সূচনা করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভার পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হতে শুরু করেছে। যেখানে দর্শকদের একাংশকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে ভাঙতে দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, বিহার থেকে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাদের এ রাজ্যে আনা হয়েছিল। কিন্তু তারপর ২০০ বা ১০০ টাকা দেওয়া হলে তার ক্ষোভে ফেটে পড়েন। 

ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সভায়, বিক্রি হয়ে যাওয়া মিডিয়া এটা দেখাচ্ছে না, 500 টাকা করে দেবে বলে বিহার থেকে মেয়েদের এনে 200 টাকা করে দেওয়ার পর।"

এ ক্ষেত্রে 'বিহার থেকে মেয়েদের এনে' কথাটির মাধ্যমে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে যে এই মহিলাদের বিহার থেকে দুর্গাপুরের সভায় আনা হয়েছিল আর্থিক প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে। 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি অর্থসত্য ও বিভ্রান্তিকর। এই ভিডিওটি দুর্গাপুরের সভার নয়। বরং বিহারের মোতিহারিতে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে ঘটনাটি ঘটেছিল। 

সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে 

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলোকে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও Rofl Gandhi 2.0 নামের এক এক্স ব্যবহারকারীর হ্যান্ডেলে পাওয়া যায়। ভিডিওটি পোস্ট করে এই ঘটনাটি বিহারের মোতিহারির বলে লেখা হয়, যেখানে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদী আরেকটি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। 

এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও ইউটিউব শর্টে অন্য একটি চ্যানেলে পাওয়া যায়, এখানে ভিডিওটির মান ছিল অনেকটাই ভালো। এই ভিডিওটির ক্যাপশনেও লেখা হয় যে মোতিহারিতে নরেন্দ্র মোদীর সভাস্থলে ঘটনাটি ঘটে। 

Advertisement

ঘটনাটি যে বিহারের মোতিহারিতেই ঘটেছিল সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে এরপর দুর্গাপুরের সভামঞ্চের সঙ্গে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া সভামঞ্চের তুলনা করা হয়। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের এক্স হ্যান্ডেল থেকে দুর্গাপুরের সভামঞ্চের ছবি সভা শুরুর আগেই পোস্ট করা হয়েছিল। যা নীচে তুলে ধরা হলো। 

এরপর ভাইরাল ভিডিওতে থাকা সভামঞ্চের সঙ্গে বিহার সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট হওয়া গতকালকের মোতিহারির সভামঞ্চের তুলনা করা হয়। 

দুই ফ্রেমের তুলনা করা হলে সভামঞ্চে থাকা জায়ান্ট স্ক্রিনের ওপর অশোকস্তম্ভ ও স্ক্রিনের দু'পাশে থাকা সরকারি ব্যানারের সঙ্গে মিলে যায়। এর ফলে আর বুঝতে বাকি থাকে না যে ভাইরাল ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয় বরং বিহারের মোতিহারির। 

এই বিষয়ে আরও কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে First Bihar Jharkhand নামের একটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলেও মোদীর সভাস্থলে চেয়ার ভাঙচুরের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন মেলে। রিপোর্টে বলা হয় যে সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে বেশ কয়েকজন মোদীর উদ্দেশে কালো পতাকা প্রদর্শন কর প্রতিবাদ দেখান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করতে পারায় তারা এই বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। 

সব মিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় যে বিহারের মোতিহারির ঘটনাকে বিভ্রান্তিকর দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে। 

ফ্যাক্ট চেক

Social Media Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সভায় নিয়ে আসা মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয় বিহারের মোতিহারির। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে ঘটনাটি ঘটেছিল। 

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Social Media Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement