ফ্যাক্ট চেক: শিশুদের গায়ে ফুটন্ত চা ঢেলে দেওয়ার ভাইরাল ভিডিওটি আসল ঘটনার নয়, এটি স্ক্রিপ্টেড

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি কোনও বাস্তব ঘটনার নয়। বরং এটি একটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও। ভিডিও-র নির্মাতা চা থেকে বাষ্প উঠে আসার প্রভাব তৈরি করতে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করেছিলেন।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: শিশুদের গায়ে ফুটন্ত চা ঢেলে দেওয়ার ভাইরাল ভিডিওটি আসল ঘটনার নয়, এটি স্ক্রিপ্টেড

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে এক চা বিক্রেতাকে বেশ কয়েকজন বাচ্চার গায়ে গরম চা ঢেলে দিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কয়েকজন গরীব এবং ক্ষুধার্ত বাচ্চা চায়ের দোকানের মালিকের কাছে সাহায্যের চেয়েছিল, কিন্তু দোকানদার তাদেরকে সাহায্য করার পরিবর্তে তাদের গায়ে গরম চা ঢেলে দিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “মানুষ কতটা অমানুষ হলে এরকম গরম চা একটা বাচ্চার গায়ে ঢেলে দিয়েছে।” এই একই ভিডিও শেয়ার করে অপর একজন লিখেছেন, “শিশুর গায়ে গরম চা ঢেলে দেওয়া—এটা কোনো রাগ না, এটা অপরাধ।🥲#মানবতা #শিশুর_অধিকার #অপরাধ #নিষ্ঠুরতা #JusticeForChild #HumanityFirst”(সব বানান অপরিবর্তিত) 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি কোনও বাস্তব ঘটনার নয়। বরং এটি একটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও। ভিডিও-র নির্মাতা চা থেকে বাষ্প উঠে আসার প্রভাব তৈরি করতে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করেছিলেন।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ছবি এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভাইরাল ভিডিও-র প্রথম ক্লিপটি ফারহান বেগ তথা বুস্টার ভাই নামক একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পাওয়া যায়। পরবর্তী চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ওই ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা প্রতিটি ক্লিপের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভিডিও পুনরায় পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে, কেবলমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভিডিওগুলি তৈরি করা হয়েছে। 


ফারহান বেগ তথা বুস্টার ভাই নামক ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে সেখানে সেটির বায়োতে ​​উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যবহারকারী একজন ডিজিটাল ভিডিও নির্মাতা। পাশাপাশি, হ্যান্ডেলটিতে ভাইরাল ভিডিওর মতো বেশ কয়েকটি ভিডিও পাওয়া যায়। যে ভিডিওতে তাকে শিশুদের উপর গরম চা বা জল ঢেলে দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি, গত ১২ জানুয়ারি ফারহান বেগের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে অন্য একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে আজতকের সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়, যেসব বাচ্চার গায়ে এই চা বা জল ঢালা হয়েছে তারা সকলেই তাদের নিজেদের লোক। কেবলমাত্র বিনোদনের জন্য ভিডিওগুলি তৈরি করা হয়েছে। 

Advertisement


এখানে উল্লেখ্য, ভিডিওগুলি যে চায়ের দোকান তোলা হয়েছিল সেটি উত্তর প্রদেশের বাহরাইচের সংলগ্ন নানপাড়ায় অবস্থিত। তবে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য, আমরা ভিডিও নির্মাতা ফারহান বেগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন ফারহান আমাদের জানান, তিনি নিয়মিতভাবে বিনোদনের জন্য এই ধরনের ভিডিও তৈরি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। পাশাপাশি, ফুটন্ত চা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে, ফারহান ব্যাখ্যা করেন যে বাষ্পের প্রভাব তৈরি করতে তিনি তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করেন। যার ফলে চা বা জল গরম দেখায়। এখানে উল্লেখ্য, এর আগে এই একই দাবিতে একই ভিডিও হিন্দি এবং ইংলিশেও শেয়ার করা হয়েছিল। তখনও ইন্ডিয়া টুডের তরফেও সেটির ফ্যাক্ট চেক করা হয়।  

 
এর থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে ভাইরাল ভিডিওটি কোনও বাস্তব ঘটনার নয়।

ফ্যাক্ট চেক

facebook users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাহায্য চাওয়ায় গরীব এবং ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের গায়ে গরম চা ঢেলে দিয়েছে দোকানের মালিক।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড। ভিডিও-র নির্মাতা চা থেকে বাষ্প উঠে আসার প্রভাব তৈরি করতে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করেছিলেন।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
facebook users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement