

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে একটি হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে এক ব্যক্তিকে প্রাণপণ লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে যে এই ভিডিওতে নাকি একজন বাবা বাঘের সঙ্গে লড়াই করেছেন নিজের নয় বছর বয়সী মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে।
ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে এই ভিডিওটি অনেকেই শেয়ার করে লিখেছেন, নিজের ৯ বছরের কন্যার জীবন বাঁচাতে বাঘের সঙ্গে লড়ে গেলেন বাবা। ভালো থাকুক পৃথিবীর এইসব সাহসী বাবারা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মারাঠি সংস্করণ জনসত্তাও গত ২৬ জানুয়ারির একটি রিপোর্টে এই ভিডিওকে বাঘের হামলা বলে দাবি করেছে। (আর্কাইভ)
আজতক বাংলাদেশ অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিও-র দাবিটি অসত্য। এই ঘটনায় কোনও বাবাকে তার মেয়েকে বাঁচাতে দেখা যায়নি। সেই সঙ্গে ভিডিওতে থাকা বন্যপ্রাণীটি বাঘও নয়।
সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে
ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পাওয়া যায় যা গত ৩ জানুয়ারি আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওটি পোস্ট করে হিন্দিতে লেখা হয় যে এটি নাঙ্গল লোটওয়ারা নামক স্থানের যেখানে কোনও জঙ্গলি পশু এক ব্যক্তির উপর হামলা করেছিল।
নাঙ্গল লোটওয়ারা স্থানটি কোথায় সেই বিষয়ে সার্চ করা হলে জানা যায়, এটি রাজস্থানের ডাউসা জেলার অন্তর্গত। এই বিষয়টিকে সূত্র ধরে কিছু সার্চ করা হলে জয়পুর লুক নামের একটি ভ্যারিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই একই ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়, নাঙ্গল লোটওয়ারার গ্রামে একটি হায়না একটি কুয়োতে পড়ে আটকে গেছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীরা ওই হায়নাটিকে উদ্ধার করল সে এক স্থানীয় ব্যক্তির উপর হামলা চালায়।
এই বিষয়ে বিশদে কিওয়ার্ডের মাধ্যমে সার্চ করা হলে এনডিটিভি রাজস্থান, নিউজ ১৮ হিন্দি এবং জ়ি নিউজ রাজস্থানের একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। খবরগুলিতে বলা হয়, ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরেই বাঘের উপদ্রব বেশ বেড়েছিল। এ বার ওই একই জায়গায় একটি হায়না উৎপাত চালায়। হায়নাটি কুয়োয় পড়ে গিয়ে প্রথমে চিৎকার করা শুরু করে।

এরপর চিৎকার শুনে এলাকাবাসীরা হায়নাটি উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। বন দফতরকেও খবর দেওয়া হয়। বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেসিবির সাহায্যে হায়নাটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হায়নাটি পালানোর চেষ্টা করে এবং ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা রাজু মীনা নামের এক ব্যক্তির পা ধরে নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেন এবং রাজু মীনাকে উদ্ধার করেন। তবে এখানে কোনও রিপোর্টেই লেখা হয়নি যে ঘটনাস্থলে রাজু মীনার কন্যা বা অন্য কোনও মহিলা আহত হয়েছেন।
নিউজ রিপোর্টগুলি এই ঘটনার পৃথক ভালো মানের ভিডিও প্রকাশ পায়। সেখানেও কোনও নারী বা শিশুকন্যাকে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সবিস্তারে জানতে আমরা ডাউসা জেলার আজতকের প্রতিনিধি লক্ষ্মীকান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনিও আমাদের নিশ্চিত করেন যে এই ঘটনায় কোনও শিশুকন্যা বা মহিলা আহত হননি। যে কাহিনিটি বলা হচ্ছে সেটি মনগড়া।
লক্ষ্মীকান্ত আরও জানান যে হায়নার অতর্কিত হামলায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
ফলে সবমিলিয়ে বলাই যায় যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল দাবিটি অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে নিজের ৯ বছরের কন্যার জীবন বাঁচাতে এক বাবা বাঘের সঙ্গে লড়েছেন।
ভিডিওটি জানুয়ারি মাসের রাজস্থানের ডাউসা জেলার। একটি হায়না এক স্থানীয় গ্রামবাসীর উপর হামলা করেছিল, এখানে কোনও শিশুকন্যাকে বাঁচাতে হয়নি।