

তৃণমূলের পতন এবং বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছে। এই হিংসার শিকার হয়েছেন হিন্দু এবং সংখালঘু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। এই আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে প্রকাশ্য রাস্তায় বেশ কয়েকজন পুরুষ ও মহিলাকে একে অপরের সঙ্গে মারধর করতে এবং আঘাতের কারণে এক ব্যক্তিকে রাস্তার উপরেই লুটিয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পরে রাজনৈতিক হিংসার জেরে মৃত্যু হয়েছে এক মুসলিম ব্যক্তির। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “ইন্ডিয়া ভারতে ফের রাজনৈতিক হিং*সার শি*কার পশ্চিমবঙ্গের এক মুসলিম যুবক। বসবাস এর অযোগ্য হয়ে গেছে রাজ্যটা।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি ২০২৬ সালের ১ জুন মহারাষ্ট্রের ওয়াসিম জেলায় গাড়ি ওভারটেক করা সংক্রান্ত বিবাদের দৃশ্য। পাশাপাশি, এই ঘটনায় কারোর মৃত্যু হয়নি।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৫ জুন একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের ওয়াসিম জেলায় গাড়ির সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সামান্য বিবাদের জেরে ১০-১২ জনের একটি দল লোহার রড-সহ অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে অপর পক্ষের বেশ কয়েকজনকে নির্মমভাবে মারধর করে। চলতি বছরের ৩ জুন এই একই তথ্য-সহ পাবলিক নিউজেও ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।
Washim, Maharashtra- A shocking daylight assault in Washim district has once again raised serious questions about deteriorating law and order in the region. A gang of 10 to 12 men mercilessly attacked a group of people with iron rods and other lethal weapons over a minor dispute… pic.twitter.com/OyhINdt0cT
— NextMinute News (@nextminutenews7) June 5, 2026
এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও এবং এর স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জুন মহারাষ্ট্রের ওয়াসিম জেলার ওয়াসিম শহরে এক যুবক তার মা ও ছোট সন্তানকে নিয়ে বাইকে করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ওয়াশিম জেলা হাসপাতালের কাছে অবস্থিত একটি মোটর মেকানিকের গ্যারেজের মালিক তাকে ওভারটেক করলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
তখন যুবকটি ওভারটেক করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে, গ্যারেজের মালিক তার সঙ্গে তর্ক করেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিবাদ চলাকালীন যুবককের তিন বন্ধু সেখানে এসে পৌঁছায় এবং তারাও ওভারটেক করার বিষয়ে গ্যারেজের মালিককে প্রশ্ন করে। তখন মালিক এবং তার দোকানের কর্মীরা রাস্তার মাঝখানে কাঠ ও লোহার রড দিয়ে ওই যুবক এবং তার বন্ধুদের বেধড়ক মারধর করে। এই মারধরে যুবকের মা-সহ মোট পাঁচজন আহত হন।

এরপর বিষয়টি সম্পর্কে আর জানতে এরপর আমরা ওয়াসিম সিটি থানার আধিকারিক এবং আজতকের ওয়াসিম জেলা সাংবাদিক ঝাকা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উভয়ই এই একই তথ্য প্রদান করেন। পাশাপাশি, ঝাকা খান ঘটনার এফআইআর কপি-সহ জানান, “এই ঘটনায় আহতরা সকলেই হিন্দু এবং তাদের নাম যথাক্রমে লক্ষ্মী রাউত, প্রবীণ রাউত, প্রতীক রাউত, এবং অঙ্কুশ সোনটাক্কে এবং সুরজ জোগদন্ড। তবে এই ঘটনায় কারোর মৃত্যু হয়নি। অন্যদিকে অভিযুক্তরা সকলেই মুসলিম এবং তাদের নাম হল শেখ খওয়াজ, শেখ বাবার, শেখ জাভেদ, শেখ পাপ্পু এবং শেখ রফিক।” এখানে উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসায় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওটি-র সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসায় মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে মহারাষ্ট্রের অসম্পর্কিত ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পরে রাজনৈতিক হিংসার জেরে মৃত্যু হয়েছে এক মুসলিম ব্যক্তির।
ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি মহারাষ্ট্রের ওয়াসিম জেলায় গাড়ি ওভারটেক করা সংক্রান্ত বিবাদের দৃশ্য এবং এই ঘটনায় কারোর মৃত্যু হয়নি।