

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে দুটি আলাদা আলাদা ক্লিপের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভিডিও। যেখানে প্রথম ক্লিপটিতে কোনও একটি গ্রামে বহু সংখ্যক মানুষকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই একটি পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে এবং দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ক্লিপটিতে রায়ট শিল্ডের সাহায্যে পুলিশের তরফে করে রাখা ব্যারিকেড লক্ষ্য করে হামলা চালাতে এবং পাথর ছুড়তে দেখা যাচ্ছে বেশকিছু যুবককে। উভয় ক্লিপের সমন্বয়ে তৈরি ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি বিক্ষোভকারীদের তরফে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়ে হামলার দৃশ্য। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মোদি বিরোধী আন্দোলনে মোদির গাড়ি বহরে হামলা।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র কোনও ক্লিপই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়ে হামলার দৃশ্য নয়। বরং প্রথম ক্লিপটি মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার তালাওয়াড়ি গ্রামে একটি প্রস্তাবিত চুনাপাথরের খনি জরিপের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের তরফে প্রশাসনিক আধিকারীকদের উপরে হামলার দৃশ্য। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ক্লিপটি ইন্দোনেশিয়ার একটি বিক্ষোভের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
প্রথম ক্লিপ: ভাইরাল ভিডিও-র প্রথম ক্লিপটির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি ফেসবুক পেজে এই একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিও-র ক্যাপশন অনুযায়ী, সেটি মধ্যপ্রদেশের কুকশির তালাওয়াড়ি গ্রামে একটি চুনাপাথরের খনি পরীক্ষার যাওয়া প্রশাসনিক আধিকারীকদের উপরে পাথর ছোড়ার ঘটনা।
এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এই একই ভিডিও-সহ দৈনিক ভাস্করে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার কুকশি থানার অন্তর্গত তালাওয়াড়ি গ্রামে একটি প্রস্তাবিত চুনাপাথরের খনি পরীক্ষা করতে যায় প্রশাসন এবং পুলিশের একটি দল। তখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা, প্রস্তাবিত খনি থেকে চুনাপাথর উত্তোলন করা হলে তাদের কৃষি জমি অনুর্বর হয়ে যাবে এবং তাদেরকে বাস্তুচ্যুতিও হতে হবে দাবি করে অধিকারীকদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। এক পর্যয়ে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক আধিকারীকদের উপরে হামলা চালাতে শুরু করে এবং তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে।

দ্বিতীয় ক্লিপ: অন্যদিকে ভাইরাল ভিডিও-র দ্বিতীয় ক্লিপটি সম্পর্কে জানতে সেটির একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘Nigerian Military Gallery’ নামক একটি ফেসবুক পেজে এই একই ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে ক্লিপটিকে ইন্দোনেশিয়ার বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ২০২৫ সালের ২৯ অগস্ট আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ‘Citrus County Chronicle’এ এই একই স্থানে তোলা একই ঘটনার একটি ছবি-সহ একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে ছবিটির কৃতিত্ব অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।
সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ অগস্ট ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার মেদানে সাংসদদের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল দেশটির ছাত্ররা। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। সেই একটি পুলিশের গাড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত হন আফফান কুরনিয়াওয়ান নামক ২১ বছর বয়সী একজন অনলাইন মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালক। এরপর, আফফানের মৃত্যুর প্রতিবাদে ২৯ অগস্ট সকালে বিক্ষোভকারীরা জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ান পুলিশের দাঙ্গা দমন বিভাগের সদর দফতরের দিকে মিছিল শুরু করে। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়। জবাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর আগে এই একই ভিডিও নেপালের জেন-জি বিক্ষোভের দৃশ্য বলে শেয়ার করা হয়েছিল। সেই সময় আজতকের তরফে ভিডিওটির ফ্যাক্ট চেক করা হয়। সেই প্রতিবেদনটি এখানে দেখা যাবে।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়ে হামলার দৃশ্য দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে পুরনো অসম্পর্কিত ভিডিও।

ভাইরাল ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের তরফে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়ে হামলা করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিও-র কোনও ক্লিপই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়ে হামলার দৃশ্য নয়। বরং প্রথম ক্লিপটি মধ্যপ্রদেশের চুনাপাথর খনি পরীক্ষার সময় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের দৃশ্য এবং দ্বিতীয়টি ইন্দোনেশিয়ার ঘটনা।