ফ্যাক্ট চেক: মোদী সরকারের খরচে তৈরি হচ্ছে না হায়দরাবাদের 'স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি'

স্ট্যাচু অব ইউনিটির পর কি এখন স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি তৈরি করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার?

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: মোদী সরকারের খরচে তৈরি হচ্ছে না হায়দরাবাদের 'স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি'স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি কি মোদী সরকারের টাকায় তৈরি হচ্ছে?

 

এ বার স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি নিয়ে একটি পোস্টকার্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পোস্টকার্ডের মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, গুজরাটে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের স্ট্যাচু অব ইউনিটির পর কেন্দ্রীয় সরকার নাকি আরেকটি স্ট্যাচু তৈরি করছে, এবং সেটি বানাতে ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। 

ভাইরাল পোস্টকার্ডে লেখা হয়েছে, "বেকার খরচের শীর্ষে মোদী সরকার। ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মোদী সরকার তৈরী করলো স্ট্যাচু অফ ইকুয়ালিটি। এর আগে ২৭০০ কোটি টাকা খরচ করে বানিয়েছে স্ট্যাচু অফ ইউনিটি।" পোস্টকার্ডটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "মূর্তিজীবী মোদী সরকার।"

ভাইরাল এই পোস্টকার্ডের আর্কাইভ এখানেএখানে দেখা যাবে। 

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফয়া) তদন্ত করে পেয়েছে যে ভাইরাল পোস্টকার্ডের দাবি সত্যি নয়। স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি মোদী সরকারের টাকায় নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত সংস্থার খরচে তৈরি করা হয়েছে। 

আফয়া তদন্ত 

স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি কী, বা তা কোথায় তৈরি হচ্ছে, সেটা জানতে সবার প্রথম আমরা এর কিওয়ার্ড সার্চ করি। তখন একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পারি, তেলেঙ্গানা রাজ্যে হায়দরাবাদের অদূরেই সন্ত রামানুজাচার্যের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম এই মূর্তির উচ্চতা ২১৬ ফুট হতে চলেছে। 

আরেকটি প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি, সত্যিই ১০০০ কোটি টাকা খরচ করে এই মূর্তি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে কোথাও এমন কথা লেখা ছিল না যে এই মূর্তি কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করছে। বরং খবর অনুযায়ী, ত্রিডান্ডি চিন্না জিয়ার স্বামী নামক ব্যক্তি এই পুরো বিষয়টির পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। 

মূর্তির সঙ্গে কী সম্পর্ক মোদীর?

তাহলে এই মূর্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় সরকারের কী যোগাযোগ? নতুন করে কিওয়ার্ড সার্চের দ্বারা ইন্ডিয়া টুডে-র একটি প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি যে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ এই মূর্তিটি উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

Advertisement

কাদের তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে মূর্তি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটির ওয়েবসাইট খুলে দেখি। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মূর্তিটি 'জিয়ার এডুকেশনাল ট্রাস্ট' নামক একটি বেসরকারি সংস্থা নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করছে। সেই ওয়েবসাইটেই আমরা ওই সংস্থার যাবতীয় হিসেব-নিকেশের তথ্য দেখতে পাই। সেখান থেকেই স্পষ্ট হয়, সরকারি টাকায় নয়, বরং সন্ত রামানুজাচার্যের ভক্তদের দান থেকেই এই স্ট্যাচু তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার জমা-খরচের হিসেবের ছবি নীচে তুলে ধরা হল। 

সুতরাং এখান থেকেই একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি তৈরির ক্ষেত্রে মোদী সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। 

 

ফ্যাক্ট চেক

a facebook page

দাবি

২৭০০ কোটি টাকা দিয়ে স্ট্যাচু অব ইউনিটি তৈরি করার পর এ বার ১০০০ কোটি টাকা খরচ করে স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি তৈরি করল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

ফলাফল

স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটি সরকারি খরচে তৈরি হয়নি। সন্ত রামানুজচার্যের এই মূর্তি তাঁর ভক্তদের দানের সহায়তায় জিয়ার এডুকেশনাল ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
a facebook page
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement