

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কোনও একটি মসজিদ বা মাদ্রাসার ছাদ থেকে টুপি-পাঞ্জাবি-পাজামা অথবা লুঙ্গি পরিহিত বেশ কয়েকজনকে উল্টো দিকের একটি বিল্ডিংয়ে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পাথার ছুঁড়তে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তরফে একটি মাদ্রাসায় হামলা চালানো হলে মাদ্রাসার ছাত্ররা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “ভারতে হিন্দু জঙ্গি গোষ্ঠী মাদ্রাসায় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে আর মুসলিম ছাত্ররা তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। এই হলো মোদির ভারত।” (সব বানান অপরিবর্তিত)

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে ভারত কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপালের ধনুষা জেলার কমলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিক্ষুব্ধ জনতার তরফে একটি মসজিদে হামলার দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি একাধিক এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ বেশকিছু পোস্ট পাওয়া যায়। সেই সব পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, ভাইরাল ভিডিওটি নেপালের ধনুষা মজসিদ ভাঙচুরের দৃশ্য। এই ভাঙচুরের ঘটনার পরেই দেশটিতে শুরু হয়েছে সহিংস বিক্ষোভ।
JUSTIN🇳🇵:Violent protests erupt in Nepal after Dhanusha mosque vandalised.#Nepal #Protest #Mosque pic.twitter.com/aHt75Qa4p6
— Geopolitics by paban (@PabanSingh82441) January 6, 2026
এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে একাধিক সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও এবং এর স্ক্রিনশট-সহ বেশকিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি টিকটকে হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করে নেপালের ধনুষা জেলার কমলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুই মুসলিম যুবক। হায়দার আনসারি এবং আমানত আনসারি নামক অভিযুক্ত ওই দুই যুবকের মন্তব্যের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ধনুষা-সহ নেপালের একাধিক জেলায়।

পাশাপশি, অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে নেপালের একাধিক স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। এর মধ্যে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ধনুষা জেলার কমলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মসজিদে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। আর এই হামলার পরেই দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, বিক্ষোভ প্রথম শুরু হয় নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষের আকার নেয়। পারসা জেলা প্রশাসন বিহারের রক্সৌল জেলা সংলগ্ন এই বীরগঞ্জ শহরে কার্ফু জারি করে। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পরেই ভারত নেপালের সঙ্গে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত ধরনের আন্তঃসীমান্ত চলাচল সীমিত করেছে।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের তরফে মাদ্রাসায় হামলা দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে নেপালের ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তরফে একটি মাদ্রাসায় হামলা চালানো হলে মাদ্রাসার ছাত্ররা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপালের ধনুষা জেলার কমলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিক্ষুব্ধ জনতার তরফে একটি মসজিদে হামলার দৃশ্য।