ফ্যাক্ট চেক: বাংলাদেশ নির্বাচনের আগে ট্রাক ভর্তি ভারতীয় অস্ত্র-সহ BNP প্রার্থীর গ্রেফতারের দাবিটি ভুয়ো

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভারতীয় অস্ত্র-সহ ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে। বরং ২০২৫ সালের ৯ অগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে ঢাকার নিউমার্কেট থেকে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ছবির সঙ্গে মির্জা আব্বাসের একটি এআই নির্মিত ছবি যুক্ত করে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: বাংলাদেশ নির্বাচনের আগে ট্রাক ভর্তি ভারতীয় অস্ত্র-সহ BNP প্রার্থীর গ্রেফতারের দাবিটি ভুয়ো

রাত পোহালেই একটি ঐতিহাসিক জোড়া নির্বাচনের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলাদেশ। প্রথমটি হলো পরবর্তী ক্ষমতাসীন দল নির্ধারণের জন্য ১৩তম সংসদ নির্বাচন। অন্যদিকে দ্বিতীয়টি— ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংবিধানে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না সেই সংক্রান্ত 'জুলাই সনদ' নামে পরিচিত একটি সাংবিধানিক গণভোট। যদিও আগেই আওয়ামী লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে তাদের বাদ দিয়েই অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন।

আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে দুটি ছবির একটি কোলাজ। যেখানে প্রথম ছবিতে, একটি টেবিলের উপরে রাখা বহু সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে দ্বিতীয় ছবিতে, অন্য একটি টেবিলের উপরে রাখা আছে বেশ কয়েকটি বন্দুক এবং টেবিলের পাশে হাতে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এবং তাঁকে ঘিরে রেখেছেন অস্ত্রধারী কয়েকজন বাংলাদেশ আর্মির কমান্ড।

ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ১৩তম সংসদ নির্বাচনের ঠিক প্রাক মুহূর্তে এক ট্রাক ভারতীয় অস্ত্র-সহ ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ছবির কোলাজটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভয়ঙ্কর অভিযানে ১ ট্রাক ভারতীয় অস্ত্রসহ নির্বাচনের আগে গ্রেফতার মির্জা আব্বাস !”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভারতীয় অস্ত্র-সহ ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে। বরং ২০২৫ সালের ৯ অগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে ঢাকার নিউমার্কেট থেকে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ছবির সঙ্গে মির্জা আব্বাসের একটি এআই নির্মিত ছবি যুক্ত করে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল কোলাজের প্রথম ছবিটি নিয়ে অনুসন্ধান চালালে ২০২৫ সালের ১০ অগস্ট বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ডেইলি ইত্তেফাকের অফশিয়াল ফেসবুক পেজে অন্যান্য ছয়টি ছবির সঙ্গে এই একই ছবি-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ছবিগুলি শেয়ার করে ডেইলি ইত্তেফাকের তরফে পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, “দেশীও অ' স্ত্রের বিক্রয় কেন্দ্র ও গু'দাম থেকে বিপুল পরিমাণ অ/ স্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (৯ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অস্ত্রে গুদাম রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে এসব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।”

Advertisement

এরপর উক্ত সূত্র ধরে এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ২০২৫ সালের ১০ অগস্ট বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম কালের কন্ঠতে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ অগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় তিনটি দেশীয় অস্ত্রের গুদামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দোকানগুলি থেকে প্রায় এক হাজার একশোর মতো সামুরাই-চাপাতি-সহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপশি, অবৈধভাবে অস্ত্র মজুদের অভিযোগ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

অন্যদিকে, কোলাজের দ্বিতীয় ছবি অর্থাৎ হাতে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ছবিটি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে সেটিতে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। কারণ, সেখানে উপস্থিত মির্জা আব্বাস এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের শারীরিক গঠন, ত্বকের রং এবং চোখের চাহনির মধ্যে স্বাভাবিক নয় বলে মনে হয়। আর এই ধরনের অসঙ্গতি সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ছবির কমেন্ট সেকশনেও অনেকেই সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি বলেই দাবি করেছেন। পাশাপাশি, ছবিটি নিয়ে এআই যাচাইকারী ওয়েবসাইট AI or Not-এ পরীক্ষা করা হলে ওয়েবসাইটি ছবিটিকে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করার সম্ভাবনাই বেশি বলে উল্লেখ করেছে।

এখানে উল্লেখ্য, রাত পোহালেই বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের ঠিক প্রাক মুহূর্তে যদি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তথা ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মতো একজন বরিষ্ঠ নেতাকে আস্ত্র-সহ গ্রেফতার করা হয়, তাহলে সেই সংক্রান্ত খবর অবশ্যই প্রথম শ্রেণির বাংলাদেশি তথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হবে। কিন্তু আমরা আমাদের অনুসন্ধানে এমন কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদন খুঁজে পাইনি যা থেকে এর সত্যতা প্রমাণ হয়। তবে অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের শাসনকালে প্রকাশিত বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে বিডি নিউজ-২৪-এ মির্জা আব্বাসের গ্রেফতারি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-র সমাবেশে সহিংসতার অভিযোগ-সহ মোট ১১টি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের তরফে এই সবগুলি মামলায় তাঁকে জামিন দেওয়া হলে তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেই জামিনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর গ্রেফতার সংক্রান্ত আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
 

পক্ষান্তরে, গত সোমবার অর্থাৎ চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মতিঝিলের পীর জঙ্গি মাজার রোডে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেই সমাবেশে মির্জা আব্বাসের হয়ে ভোট প্রচার করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি, তারেক রহমানের সঙ্গে সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস।


এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে ভারতীয় অস্ত্র-সহ সেনাবাহিনীর হাতে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের গ্রেফতারের হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বিভ্রান্তিকর।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook users

দাবি

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ১৩তম সংসদ নির্বাচনের ঠিক প্রাক মুহূর্তে এক ট্রাক ভারতীয় অস্ত্র-সহ ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ফলাফল

ভারতীয় অস্ত্র-সহ ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে। বরং বাংলাদেশ সেনার তরফে ঢাকার নিউমার্কেট থেকে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ছবির সঙ্গে মির্জা আব্বাসের একটি এআই নির্মিত ছবি যুক্ত করে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। 

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement