
২০২৩ সালের ১৪ জুলাই নয়, এক দশক আগেই বন্ধ হয়েছে ভারতের টেলিগ্রাম পরিষেবামোবাইল-হোয়াটসঅ্যাপ-ইমেল সর্বোপরি ইন্টারনেটে আগমনের বহু বছর আগে, ডাক ব্যবস্থা আসারও পূর্বে, ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম ছিল টেলিগ্রাম। উনিশ শতকের মাঝামাঝি বা তার আগেই আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে শুরু হয়ে গিয়েছিল এই পরিষেবা। ১৮৫০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতা ও ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে ভারতের প্রথম টেলিগ্রাম লাইন পাতা হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে মুম্বই থেকে পুনতে ভারতের প্রথম টেলিগ্রাম পাঠানো হয়েছিল।
যাত্রা শুরুর এত বছর পর, ভারতের প্রাচীন এই যোগাযোগের মাধ্যমকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের একবার চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই একটি পোস্ট কার্ড শেয়ার করছেন। যেখানে লেখা রয়েছে, "বিদায় টেলিগ্রাম! ১৬০ বছরের ইতিহাসে আজ দাঁড়ি পড়লো ১৪ই জুলাই ২০২৩ রাত ৯টা সরকারি ভাবে বন্ধ হয়ে গেল এই পরিষেবা।" (পোস্টের বানান অপরিবর্তিত)

আরও অনেকেই পোস্ট কার্ডটি শেয়ার করেছেন। যা দেখা যাবে এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
কিন্তু ইন্ডিয়া টুডে তদন্ত করে দেখেছে যে ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই নয়, প্রায় এক দশক আগেই পাকাপাকি ভাবে ভারতের টেলিগ্রাম ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
কীভাবে এগলো অনুসন্ধান?
ইন্টারনেটে এই সংক্রান্ত কিওয়ার্ড সার্চ করলে ২০১৩ সালের ১৭ জুন BBC ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি খবর আমাদের নজরে পড়ে। সেখান থেকে জানা যায়, ওই বছরেরই ১৫ জুলাই থেকে ভারতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল টেলিগ্রাম পরিষেবা।

একই দিনে CNN ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেই সময় এসএমএস, ইমেল ও টুইটারের মতো যোগাযোগের পরিষেবার পরিধি বদ্ধি হওয়ায় Bharat Sanchar Nigam Limited (BSNL) টেলিগ্রাম পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
একই সময়ে Times of India, NBC News, The Hindu, Voice of America ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই শেষবারের মতো টেলিগ্রাম পাঠানো হয়েছিল। ১৫ জুলাই থেকে ওই পরিষেবা পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

১৪ই জুলাই ২০২৩ রাত ৯টায় সরকারি ভাবে বন্ধ হয়ে গেল টেলিগ্রাম পরিষেবা।
২০১৩ সালের ১৪ জুলাই শেষবারের মতো টেলিগ্রাম পাঠানো হয়েছিল। ১৫ জুলাই থেকে এই পরিষেবা পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।