ফ্যাক্ট চেক: মিথ্যে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়াল তামিলনাড়ুতে ওড়িশার যুবকের উপর হামলার ভিডিও

আজতক ফ্যাক্ট চেককে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ভাইরাল ভিডিও-র আক্রান্ত যুবকের নাম সুরজ দুর্গা এবং তিনি মুসলিম নয় বরং হিন্দু। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার তিরুত্তানি রেল স্টেশনের কাছে ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার বাসিন্দা সুরজের উপরে হামলা চালায় স্থানীয় চার নাবালক।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: মিথ্যে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়াল তামিলনাড়ুতে ওড়িশার যুবকের উপর হামলার ভিডিও

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কোনও একটি নির্জন স্থানে তিন যুবককে অপর এক যুবককের উপরে অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে এবং তাকে রক্তাক্ত করতে দেখা যাচ্ছে। আর এই পুরো ঘটনার ভিডিও তৈরি করছে অপর একজন। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কেবলমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তামিলনাড়ুতে চার হিন্দু কিশোর এক মুসলিম যুবককে নৃশংসভাবে অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “শুধুমাত্র মু'সলিম হওয়ায় তামিলনাড়ুর একটি শহরের এলাকায় (চেন্নাই/তিরুভাল্লুর বা তিরুট্টানি) মধ্যপ্রদেশের মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিক সিরাজের উপর চারজন নাবালক ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃ*শং*সভাবে আ*ক্রমণ করেছে, এবং সেটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।” (সব বানান অপরিবর্তিত) 

আজতক ফ্যাক্ট চেককে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ভাইরাল ভিডিও-র আক্রান্ত যুবকের নাম সুরজ দুর্গা এবং তিনি মুসলিম নয় বরং হিন্দু। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার তিরুত্তানি রেল স্টেশনের কাছে ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার বাসিন্দা সুরজের উপরে হামলা চালায় স্থানীয় চার নাবালক।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, সেটি তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার ভিডিও। যেখানে ওড়িশার এক পরিযায়ী শ্রমিকের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে চার নাবালক।

উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও অথবা এর স্ক্রিনশট-সহ একাধিক তামিল, ওড়িয়া এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার তিরুত্তানি রেল স্টেশনের কাছে এক পরিযায়ী শ্রমিকের উপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ১৭ বছর বয়সী স্থানীয় চার নেশাগ্রস্ত কিশোর। আক্রান্ত যুবকের নাম সুরজ এবং ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার বাসিন্দা। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে পুলিশ চার অভিযুক্তকেই আটক করে।

অভিযুক্তদের আদালত পেশ করা হলে তিনজনকে চেঙ্গলপাট্টুর একটি কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয় এবং আর একজনকে পড়াশোনার কারণে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে কোনও প্রতিবেদনেই আক্রান্ত যুবকের উপর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা চালানোর কথা এবং এই হামলা জেরে তার মৃত্যু হয়েছে সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কোথাও আক্রান্ত যুবকের পুরো নামও উল্লেখ করা হয়নি। সব জায়গাতেই তার নাম কেবল ‘সুরজ’ লেখা হয়েছে। যা থেকে তার ধর্মীয় পরিচয় অস্পষ্ট থেকে যায়।

Advertisement

তাই এরপর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমরা তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুরের এসপি বিবেকানন্দ শুক্লা এবং ওড়িশার কালাহান্ডির এসপি নাগারাজ দেবারকোন্ডার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা উভয়েই আজতক ফ্যাক্ট চেককে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ওড়িশার কালাহান্ডির বাসিন্দা ওই আক্রান্ত যুবকের পুরো নাম সুরজ দুর্গা এবং সে একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এসপি বিবেকানন্দ শুক্লা জানান, “ট্রেনে যাওয়ার সময় একে অপরের দিকে তাকানো সংক্রান্ত বিবাদের জেরে স্থানীয় চার নেশাগ্রস্ত নাবালক সুরজের উপরে হামলা চালিয়েছিল। তবে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও ধর্মীয় সংঘাতের সম্পর্ক নেই। বর্তমানে সুরজের অবস্থা স্থিতিশীল। যদিও অনেকে বিভ্রান্তি ছড়াতে ‘সুরজ’কে ‘সিরাজ’ বলে উল্লেখ করছেন। সুরজের বাবার নাম কবিরাজ দুর্গা এবং দাদার নাম সুরেশ দুর্গা।”

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তামিলনাড়ুতে ওড়িশার এক যুবকের উপর চার নেশাগ্রস্ত কিশোরের হামলার ভিডিও মিথ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসার রং লাগিয়ে শেয়ার করা হচ্ছে।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কেবলমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তামিলনাড়ুতে চার হিন্দু কিশোর এক মুসলিম যুবককে নৃশংসভাবে অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

ফলাফল

আজতক ফ্যাক্ট চেককে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ভাইরাল ভিডিও-র আক্রান্ত যুবকের নাম সুরজ দুর্গা এবং তিনি মুসলিম নয় বরং হিন্দু।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement