

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা রুখতে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ’কে জমি হস্তান্তর করা শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, কয়েক হাজার বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও।
যেখানে কোনও একটি স্থানের চাষের জমি থেকে এক ব্যক্তিকে আটক ও মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানদের। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বসানোর সময় বিজিবি-র (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) হাতে গ্রেফতার বিএসএফ-এর এক গুপ্তচর। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “মাইন পাতার জন্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী বিএসএফ-এর এক গুপ্তচর'কে আটক করেছে বিজিবি।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি-র সঙ্গে ভারত বা বিএসএফ-এর কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ককটেল বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে দেশটির মুন্সীগঞ্জ এলাকা থেকে ৫ বিএনপি সমর্থককে গ্রেফতারের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম Star News-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিও-র শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, “মুন্সিগঞ্জে ক'ক'টে'ল বি'স্ফো'র'ণ, ৫ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।”
এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এই একই ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেইসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন দেশটির মুন্সীগঞ্জ জেলার মুন্সীগঞ্জ ৩ নং আসনের মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় ককটেল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে প্রথমে এবং দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয়বার এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। জওয়ানদের দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় ৫ জন অভিযুক্তকে আটক করে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। অটক হওয়া অভিযুক্তরা হলেন রহমত মাঝি (৪২), পারভেজ মাঝি (২৭), মো. কামাল (৩৭), আরশাদ মাঝি ও সালিম মাঝি। তারা সকলেই স্থানীয় বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের সমর্থক বলে জানা যায়।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বসানোর সময় বিজিবি-র হাতে বিএসএফ-এর গুপ্তচরের গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বিভ্রান্তিকর।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বসানোর সময় বিজিবি-র হাতে গ্রেফতার বিএসএফ-এর এক গুপ্তচর।
ভাইরাল ভিডিওটি-র সঙ্গে ভারত বা বিএসএফ-এর কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের সময় ককটেল বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে দেশটির মুন্সীগঞ্জ এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতারের দৃশ্য।