ফ্যাক্ট চেক: বর্ধমানে BJP-র বুলডোজ়ার অভিযান দাবিতে ছড়াল নেপালের পুরনো ভিডিও

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে বর্ধমান তো নয়ই, এমনকি ভারতের সঙ্গেও কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরের রাস্তার দু’পাশে তৈরি অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: বর্ধমানে BJP-র বুলডোজ়ার অভিযান দাবিতে ছড়াল নেপালের পুরনো ভিডিও

অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশের পরই জেলায় জেলায় অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠাতে শুরু করে স্থানীয় পুরসভা। শুরুটা হয় কলকাতার তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা দিয়ে। পরবর্তীতে বুলডোজ়ারের সাহায্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বহরমপুর, নন্দীগ্রাম, হলদিয়া এবং আসানসোলের একাধিক অবৈধ নির্মাণ

আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কোনও একটি শহরের রাস্তার দু’পাশে থাকা একাধিক দোকান এবং বাড়ি ভাঙা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে সেগুলিতে বুলডোজ়ার চালানো হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার বর্ধমান শহরে একাধিক দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। 

উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “বিজেপি IS BACK”। পাশাপাশি, ভিডিও-র ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, এটা হচ্ছে আমাদের বর্ধমান শহর। চারিদিকে শুধু ভাঙচুর। দেখা যাক বিজেপি সরকার আর কত চেঞ্জ হয়, আর কিছু পাল্টাই।”

 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে বর্ধমান তো নয়ই, এমনকি ভারতের সঙ্গেও কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরের রাস্তার দু’পাশে তৈরি অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল নেপাল ভিত্তিক এক ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগের ঘটনা। ওই ভিডিওর নেপালি ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, “নেপাল পারসা জেলার বীরগঞ্জের প্রধান সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বুলডোজার দিয়ে রাস্তার দু’পাশে থাকা বাড়ি-ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এটি বুলডোজার চালানোর পরের দৃশ্য।” 

Advertisement


 


এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল নেপাল ভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং ওয়েবসাইটে এই উচ্ছেদ অভিযানের একাধিক ছবি-সহ বিস্তারিত তথ্য ও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেইসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরের গণ্ডক চত্বর থেকে শুল্ক দফতরের অফিস পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলে বীরগঞ্জ পৌরসভা কতৃপক্ষ। মূলত, গণ্ডক চত্বর থেকে মৈত্রী সেতু পর্যন্ত প্রধান সড়কটিকে উভয় দিকে ২৫ মিটার করে প্রশস্ত করার একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
 



পাশাপাশি, আমরা গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউতে নেপালের বীরগঞ্জ শহরে পরিচালিত দখল বিরোধী অভিযানের স্থানটি খুঁজে বার করি। গুগল ম্যাপে প্রাপ্ত গণ্ডক চত্বর থেকে শুল্ক দফতরের অফিস পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে থাকা দোকান ও বাড়িগুলির ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও-র ফ্রেমের হুবহু মিল পাওয়া যায়। নীচে গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউয়ের দৃশ্য দেখা যাবে। তবে এখানে উল্লেখ্য, সম্প্রতি অবৈধ নির্মাণ বিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে বর্ধমান শহরের ৩০ জন অবৈধ নির্মাণকারীকে নোটিস পাঠিয়েছে পৌরসভা।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বর্ধমান শহরের দৃশ্য দাবিতে ছড়াল নেপালের অবৈধ নির্মাণ বিরোধী অভিযানের ভিডিও।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার বর্ধমান শহরে একাধিক দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি বর্ধমান কিংবা ভারতের নয়। বরং সেটি ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement