

পালা বদলের পর বাংলাদেশে ফের একবার সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরে নির্যাতনের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তারই সাম্প্রতিক সংযোজন দীপু চন্দ্র দাস। ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু এই যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং পরবর্তীতে তার দেহ পুড়িয়ে দেয় মুসলিম মৌলবাদীরা। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে অন্য একটি ভিডিও। যেখানে গাছের গায়ে গামছা দিয়ে একটি বাচ্চা মেয়েকে বেঁধে রাখা হয়েছে। এমনকি চোখ বন্ধ অবস্থায় থাকা মেয়েটির মুখও বাঁধা রয়েছে গামছার সাহায্যে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে এক সাত বছর বয়সী হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করেছে মুসলিম মৌলবাদীরা। উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “এই সাত বছরের শিশুটির অপরাধ সে হিন্দু আর বড় অপরাধ সে বাংলাদেশে জন্মেছে। আজ আর সে নেই। ধর্ষন শেষে হত্যা করল ইউনোস এর শান্তিবাহিনী। ছি: এটা জাতীয় লজ্জা, এটা সম্পুর্ণ মানব জাতীর কলঙ্ক॥” (সব বানান অপরিবর্তিত)

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি কোনও আসল ঘটনার নয়। বরং এটি ‘সুজন কমেডি’ নামক ফেসবুক পেজে শেয়ার করা একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও। পেজের অন্য ভিডিওতে এই একই মেয়েকে অন্যান্য চরিত্রেও অভিনয় করতে দেখা গেছে।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন এই একই ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশি ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সম্প্রতি, ভাইরাল ভিডিওটিকে একজন আমলীগ নেতার মেয়েকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার দাবিতে প্রচার করা হলে রিউমর স্ক্যানারের তরফে প্রতিবেদনটিতে সেটিরই ফ্যাক্ট চেক করা হয়।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ভিডিওটি প্রথম ‘সুজন কমেডি’ নামক বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছিল। এবং এটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও। মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যে ওই পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। এমনকি প্রতিবেদনটি ‘সুজন কমেডি’ নামক ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ভাইরাল ভিডিও-র একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করা হয়। নীচে স্ক্রিনশটটি দেখা যাবে।

তবে এরপর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এরপর আমরা ‘সুজন কমেডি’ নামক ফেসবুক পেজটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করি। কিন্তু আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখতে পাই প্রতিবেদনটি লেখার আগেই পেজটি থেকে ভাইরাল ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। তবে পেজটি পর্যবেক্ষণের সময় অন্যান্য একাধিক ভিডিওতে ভাইরাল ভিডিও-র এই একই মেয়েকে অন্যান্য চরিত্রেও অভিনয় করতে দেখা গেছে। এই সব ভিডিওর অনেকগুলিতেই তাকে একই পোশাকেও দেখা গেছে।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বাংলাদেশে সাত বছর বয়সী হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন মুসলিম মৌলবাদীদের দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এক সাত বছর বয়সী হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করেছে মুসলিম মৌলবাদীরা।
ভাইরাল ভিডিওটি কোনও আসল ঘটনার নয়। বরং এটি ‘সুজন কমেডি’ নামক ফেসবুক পেজে শেয়ার করা একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।