ফ্যাক্ট চেক: শাহরুখ খান জিহাদের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সামনে নয়

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি এডিটেড অর্থাৎ সম্পাদিত। শাহরুখ খান জিহাদের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে কথা বলেছিলেন ঠিকই। তবে সেটা নরেন্দ্র মোদীর সামনে নয় বরং অন্য অনুষ্ঠানে। মোদীর সঙ্গে আসল ভিডিওতে তিনি অন্য বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: শাহরুখ খান জিহাদের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সামনে নয়

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এই ভিডিওতে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলাপচারিতা করতে দেখা যাচ্ছে। এই কথোপকথনে শাহরুখ খানকে জিহাদের আসল অর্থ বোঝাতে শোনা যাচ্ছে। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীও কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাচ্ছেন।

ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে যে শাহরুখ খান প্রধানমন্ত্রীর সামনেই তাঁকে জিহাদের আসল অর্থ বুঝিয়েছেন এবং নরেন্দ্র মোদীও সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছেন।

ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “পৃথিবীর সবথেকে ধোনি ও বলিউডের বিখ্যাত সুপারস্টার শাহরুখ খান pm মোদীর সামনে জিহাদ শব্দের অর্থ বুঝিয়ে দিচ্ছে। 2014 বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিডিয়া ও হিন্দুত্ববাদী আইটি সেল জিহাদ শব্দকে কে অপব্যবহার করে যা খুশি ক্রাইমের সাথে জিহাদ শব্দ লাগিয়ে দিচ্ছে ইসলাম ধর্ম কে ছোটো করার জন্য ।। pm মোদি নিজেও নির্বাচন প্রচার করার সময় ভোট জিহাদ, লাভ জিহাদ শব্দ গুলো ব্যবহার করেছে, সেই মোদির সামনে দাঁড়িয়ে জিহাদ শব্দটার অর্থ বুঝিয়ে দিলো সুপারস্টার শাহরুখ খান নরেন্দ্র মোদী ও তার ভক্তদের মুখের ওপর।” (ক্যাপশনের সব বানান অপরিবর্তিত)

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি এডিটেড অর্থাৎ সম্পাদিত। শাহরুখ খান জিহাদের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে কথা বলেছিলেন ঠিকই। তবে সেটা নরেন্দ্র মোদীর সামনে নয় বরং অন্য অনুষ্ঠানে। মোদীর সঙ্গে আসল ভিডিওতে তিনি অন্য বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে তা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই কথোপকথনের ভিডিও কনক নিউজ নামের সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়। ভিডিওটি ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর আপলোড করা হয়েছিল। প্রায় দুই মিনিটের এই ভিডিও ক্লিপে শাহরুখ খানকে বেশ কিছু কথা বলতে শোনা যায়। কিন্তু জিহাদ সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য তিনি এখানে করেননি।

Advertisement

এই ভিডিওতে শাহরুখকে প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছতা অভিযান সম্পর্কে কথা বলতে শোনা যায় এবং তিনি বলেন যে বর্তমানে দেশের মহাত্মা গান্ধীর ২.০ সংস্করণ প্রয়োজন। যাতে নতুন প্রজন্মকে সাধারণ বিষয়গুলি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে অবগত করা যায়।

২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলিউডের একাধিক তারকাদের নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় শাহরুখ খান, আমির খান-সহ আরও অনেকে ছিলেন। শাহরুখ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একটি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেলফিও পোস্ট করেছিলেন

প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন। ভিডিওটি নিচে দেখা যাবে।

শাহরুখের জিহাদ সংক্রান্ত মন্তব্যটি কবেকার?

শাহরুখের এই মন্তব্য সম্পর্কে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি এক্স পোস্টে শাহরুখকে এই একই বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।

এই ভিডিও-র সূত্র ধরে গুগল লেন্সে স্ক্রিনশট খোঁজা হলে আসল বক্তব্যটি ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর আপলোড হওয়া একটি ইউটিউব ভিডিওতে পাওয়া যায়। একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে এসে বক্তব্য রাখার সময় শাহরুখ এই কথাগুলি বলেন। প্রায় ২০ মিনিট দীর্ঘ এই ভিডিও-র ঠিক সাড়ে নয় মিনিট থেকে শাহরুখকে ‘জিহাদ’ সম্পর্কিত ওই মন্তব্য করতে শোনা যায়।

.

শাহরুখ বলেন, “আমি ইসলাম সম্প্রদায়ের। আমি একজন মুসলিম। আমাদের মধ্যে একটা শব্দ রয়েছে যার প্রচুর অপব্যবহার হয়, সেটা হলো জিহাদ। জিহাদ কথার আসল অর্থ হলো, আমাদের অন্তরে যে খারাপ ভাবনা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়া। তার বিরুদ্ধে জয়লাভ করা। একেই জিহাদ বলে। বাইরে রাস্তাঘাটে মানুষদের হত্যা করা জিহাদ নয়।”

অর্থাৎ, বোঝাই যাচ্ছে যে শাহরুখের মন্তব্যটি আসল হলেও এই কথাগুলি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামনে বললেনি, বরং ২০১১ সালে একটি পৃথক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন।

 

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শাহরুখ খান কীভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে জিহাদের প্রকৃত অর্থ বোঝাচ্ছেন এবং নরেন্দ্র মোদী তাতে সম্মতি জানাচ্ছেন।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি সম্পাদিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০১৯ সালে হওয়া এই আলাপচারিতায় শাহরুখ জিহাদ সংক্রান্ত কোনও কথা বললেনি। যে মন্তব্যটি শোনা যাচ্ছে তা ২০১১ সালে একটি বইপ্রকাশের অনুষ্ঠানে শাহরুখ বলেছিলেন।  

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement