ফ্যাক্ট চেক: মুম্বইয়ে ফলে ইঁদুরের বিষ প্রয়োগে অভিযুক্ত দুই ফল বিক্রেতাই হিন্দু, মুসলিম নয়

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের মালাড থানা এলাকার ঘটনা। যেখানে ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগের অভিযোগে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত ফল বিক্রেতাই মুসলিম নয় বরং হিন্দু।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: মুম্বইয়ে ফলে ইঁদুরের বিষ প্রয়োগে অভিযুক্ত দুই ফল বিক্রেতাই হিন্দু, মুসলিম নয়

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে এক ফল বিক্রেতাকে তার দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ফলের উপর ইঁদুর মারার বিষ মাখানোর সময় হাতেনাতে ধরেছেন এক ক্রেতা। অন্যদিকে অভিযুক্ত ফল বিক্রেতা দাবি করছেন, দোকানে ইঁদুরের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি কয়েকটি খারাপ কলায় বিষ মাখিয়েছেন, যাতে তা খেয়ে ইঁদুরের উৎপাত কিছুটা কম হয়।

ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, একজন মুসলিম জিহাদি ফল বিক্রেতা বিক্রির জন্য রাখা ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগ করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এতদিন পর্যন্ত এরা ফলমূলে থুতু দিত, নালার জলে ফল পরিষ্কার করত আর এখন এই জিহাদি ফলের উপর ইঁদুর মারার বিষ ছিটানোর সময় ধরা পড়েছে।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের মালাড থানা এলাকার ঘটনা। যেখানে ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগের অভিযোগে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত ফল বিক্রেতাই মুসলিম নয় বরং হিন্দু।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দ্য স্টেটসম্যানের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় একজন ফল বিক্রেতার বিরুদ্ধে বিক্রির জন্য রাখা ফলের উপর ইঁদুর মারার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ্য আসতেই পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং বিক্রেতার দোকান বন্ধ করে দেয়।

এরপর উক্ত তথ্যের উপরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবদামাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের মালাড থানা এলাকায় বিক্রির জন্য রাখা ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগের সময় দুই ফল বিক্রেতাকে হাতেনাতে ধরেন কুণাল সালুঙ্কে নামক স্থানীয় এক ব্যক্তি। এরপরেই তিনি স্থানীয় মালাড থানায় অভিযুক্ত দুই ফল বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং অভিযুক্ত দুই ফল বিক্রেতা মনোজ কুমার কেশরওয়ানি ও বিপিন কেশরওয়ানিকে গ্রেফতার করে মালাড থানার পুলিশ। পাশাপাশি, তাদের দোকানও বন্ধ করে দেয়।

Advertisement

তবে পরবর্তীতে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অর্থাৎ এই ঘটনার সঙ্গে কোনও মুসলিম ব্যক্তির যোগ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে আমরা মালাড থানার এসএইচও দুষ্মন্ত চবনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের নিশ্চিত করেন, “ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগের অভিযোগে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত ফল বিক্রেতাই হিন্দু। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুই ফল বিক্রেতা মনোজ কুমার কেশরওয়ানি ও বিপিন কেশরওয়ানিকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও মুসলিম ব্যক্তির যোগ নেই।” 

এর থেকে স্পষ্ট হয়, মিথ্যে সাম্প্রদায়িকতার দাবি-সহ শেয়ার করা হচ্ছে মুম্বইয়ের মালাডে ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগের ঘটনা।

ফ্যাক্ট চেক

facebook users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন মুসলিম জিহাদি ফল বিক্রেতা বিক্রির জন্য রাখা ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগ করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। 

ফলাফল

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের মালাড থানা এলাকার এই ঘটনায় ফলের উপর ইঁদুরের বিষ প্রয়োগের অভিযোগে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত ফল বিক্রেতা মুসলিম নয়। বরং তারা দু’জনেই হিন্দু।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
facebook users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement