

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্য়ুর পর সোশ্যাল মিডিয়া ও নানা সংবাদ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে জনাকয়েক পুলিশকর্মী দ্বারা একটি স্ট্রেচারে করে একটি কাফনযুক্ত মৃতদেহ টেনে বাইরে আনা হচ্ছে। মৃতদেহটি আনার সময় কয়েকজন সেই দেহটির উপর ফুল অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছেন।
ভিডিওটি পোস্ট করে এই মৃতদেহটি দুর্ঘটনায় প্রয়াত এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার দেহ বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “বারামতি এয়ারপোর্ট থেকে মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের পার্থিব শরীর বের করা হলো।”

এই ভিডিওতে হিন্দি সংবাদ মাধ্যম নবভারত টাইমসের লোগো রয়েছে। ভিডিওটির উপর আবার হিন্দিতে যা লেখা তার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, হাসপাতাল থেকে বাইরে আনা হলো অজিত পাওয়ারের পার্থিব শরীর।
টাইমস নাও নবভারত, নিউজ৯লাইভ এবং নিউজ ডেইলি ২৪ এর মতো সংবাদমাধ্যমও ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করে যে এতে অজিত পাওয়ারের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে বের করে আনার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
তবে আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি মিথ্যা। এই ভিডিওটি অজিত পাওয়ার মৃত্যুর আগেকার এবং মুম্বাইয়ের মুলুন্ডের যেখানে সুনীল পাটঙ্কর নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গদান করা হয়েছিল।
সত্য উদঘাটন
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির নিচে অনেকেই মারাঠি ভাষায় কমেন্টে লিখেছেন যে, এটি মুলুন্ডের ফোর্টিস হাসপাতালের, যেখানে বদলাপুরের বাসিন্দা সুনীল পাটঙ্করের পরিবার মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গ দান করেছিল। এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক মারাঠি কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে মহারাষ্ট্রের বদলাপুরের বাসিন্দা নেত্রা নারাভানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটির একটি দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়।
ভিডিওটি গত ২৬ জানুয়ারি পোস্ট করা হয়েছিল। নারাভানে মারাঠি ভাষায় ভিডিওটির বিস্তারিত বর্ণনা লিখেছেন। সেই অনুসারে, গত ২৩ জানুয়ারী তাঁর বন্ধু এবং ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী তথা শিক্ষিকা সুপ্রিয়া পাটঙ্করের স্বামী সুনীল পাটঙ্কর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান। মুলুন্ডের ফোর্টিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুনীলের মৃত্যু হয়েছিল।
সুনীলের মৃত্যুর পর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সুপ্রিয়া এবং তাঁর ছেলের কাছে জানতে চান যে তারা সুনীলের অঙ্গ দান করতে ইচ্ছুক কি না। সুনীলের পরিবার এই প্রস্তাবে রাজি হয়। অঙ্গ দান প্রক্রিয়াটি ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, হাসপাতালের কর্মীরা সাদা গোলাপ দিয়ে সুনীলকে শ্রদ্ধা জানান। এটি ছিল এই বছর ফোর্টিস হাসপাতাল মুলুন্ড শাখার প্রথম অঙ্গ দান, যার পরে সুনীলের পার্থিব শরীর বদলাপুরে তার পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই বিষয়ে গণেশ হিঙ্গে নামে আরেক ব্যক্তির একটি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়। ২৫ জানুয়ারির এই পোস্টে গণেশ লিখেছেন যে তাঁর ৪৯ বছর বয়সী বন্ধু সুনীল ১৯ জানুয়ারি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং ২৩ জানুয়ারি মারা যান। তিনি সুনীলের বেশ কিছু ছবি এবং তাঁর গানের ভিডিওও শেয়ার করেছেন।

গণেশ হিঙ্গে এবং নেত্র নারাভানে উভয়েই তাদের পোস্টে বলেছেন যে ভিডিওটি মুলুন্ডের ফোর্টিস হাসপাতালের। এছাড়াও, ভিডিওতে বেশ কয়েকটি সূত্রও এটির দিকে ইঙ্গিত করে। ভিডিওর একটি দেয়ালে লেখা আছে "অঙ্গ দাতাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি"। অনুসন্ধান করার পর আমরা দেখতে পাই যে ভারত জুড়ে বেশ কয়েকটি ফোর্টিস হাসপাতালে অঙ্গ দাতাদের সম্মান জানাতে একই ধরনের দেওয়াল তৈরি করা হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুসারে , বিমান দুর্ঘটনার পর অজিত পাওয়ারকে কোনও ফোর্টিস নয়, বারামতির পুণ্যশ্লোক অহল্যাদেবী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের বারামতী সংবাদদাতা বসন্ত মোরের কাছেও পাঠিয়েছি, যিনি নিশ্চিত করেছেন যে ভিডিওটি অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই।

এই ভিডিওতে অজিত পাওয়ারের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভিডিওটি মুম্বইয়ে মুলুন্ড ফোর্টিস হাসপাতালের। সুনীল পাটঙ্কর নামে একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গদান করা হলে এভাবে তাঁকে সম্মান জানানো হয়েছিল।