ফ্যাক্ট চেক: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইজরায়েলের সংসদে হাতাহাতি? ভিডিও-র সত্যতা জানুন

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি ইজরায়েলের সাংসদের নয়। বরং সেটি চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের সংসদে নবনিযুক্ত বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইজরায়েলের সংসদে হাতাহাতি? ভিডিও-র সত্যতা জানুন

গত মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এর পর শনিবার ইসলামাবাদে সমঝোতার আলোচনায় বসেন উভয় দেশেরে প্রতিনিধিরা। কিন্তু রবিবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, টানা ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, ইরান আমেরিকার শর্ত মানতে রাজি হয়নি। 

আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে কোনও একটি দেশের সংসদের মধ্যে সাংসদদের একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে করতে দেখা যাচ্ছে। ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডে ভয়েসওভারের মাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরান ও প্যালেস্তাইনের উপর হামলা বন্ধের দাবিতে ইজরায়েলের সাংসদে মারপিট করছে সে দেশের সাংসদরা। 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি ইজরায়েলের সাংসদের নয়। বরং সেটি চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের সংসদে নবনিযুক্ত বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল দাবি এবং ভিডিও-র সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox News-এর অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, “সংসদে হাতাহাতি: তুরস্কের সংসদে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যখন প্রধান বিরোধী দলের সদস্যরা নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রীকে তাঁর শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।”

এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এই একই ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের পার্লামেন্টে (গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) এক ভয়াবহ হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপ এয়ারডোয়ান দেশের নতুন বিচারমন্ত্রী হিসাবে আকিন গুরলেককে নিযুক্ত করেন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (CHP) শুরু থেকেই এই নিয়োগের কড়া বিরোধিতা করে আসছিল। গুরলেকের বিরুদ্ধে বিরোধী সাংসদের অভিযোগ, তিনি ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর থাকাকালীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী নেতাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন।

বিশেষ করে, ২০২৫ সালে ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোগলুকে বিতর্কিতভাবে কারাদণ্ড দেওয়ার পেছনে তার প্রধান ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন বিরোধীরা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি গুরলেকের যখন নতুন আইনমন্ত্রী হিসাবে সংসদে শপথ গ্রহণ করতে আসেন তখন বিরোধী দলের সাংসদরা স্পিকারের পোডিয়ামের সামনে অবস্থান নেন এবং গুরলেককে শপথ নিতে বাধা প্রদান করেন। এসময় ক্ষমতাসীন একে পার্টির (AK Party) সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে চরম ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়, এমনকি অনেককে একে অপরকে লক্ষ্য করে ঘুষি চালাতেও দেখা যায়।

Advertisement

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ইরান ও প্যালেস্তাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইজরায়েলের সংসদে সাংসদের হাতাহাতি দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে তুরস্কের অসম্পর্কিত ভিডিও।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ও প্যালেস্তাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইজরায়েলের সংসদে হাতাহাতিতে জাড়িয়ে পড়েছেন দেশটির সাংসদরা।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি ইজরায়েলের সাংসদের নয়। বরং সেটি চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের সংসদে নবনিযুক্ত বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement