

যৌথভাবে আমেরিকা-ইজরায়েল সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষের জেরে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যে মঙ্গলবার মায়ামির গল্ফ রিসর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ অভিযান তথা যুদ্ধ শেষের পথে। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও।
প্রায় আড়াই মিনিট দীর্ঘ সেই ভিডিওতে কয়েকজন সেনা সদস্যকে একটি কালো রঙের গাড়িতে করে চোখ বাধা এবং হাতে হাতকড়া পরিহিত এক ব্যক্তিকে আটক করে কোনও একটি স্থানে নিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ইজরায়েল এবং আমেরিকার কাছে সদ্য প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করার অপরাধে তাঁর দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করেছে ইরানি গোয়েন্দারা।
উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ক্লিপটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই সেই বেইমান এই সেই গাদ্দার এই সেই মুনাফিক এই সেই বিশ্বাসঘাতক এই সেই মীর জাফর এই সেই কু**র বাচ্চা. যে কি না আয়াতুল্লাহ খোমেনির দেহরক্ষী ছিল যে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সমস্ত তথ্য আদান-প্রদান করতো ই*স*রা*য়ে*ল ও আ*মে*রি*কা*র কাছে, ইরান গোয়েন্দাদের জালে অবরুদ্ধ এখন সমস্ত ঘটনার দায় শিকার করেছে।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওর ব্যক্তি আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেহরক্ষী নয়। বরং তিনি ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল সিরায়ায় গ্রেফতার প্রাাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদ সরকারের আমলের কমান্ডার তাইসির মাহফুজ।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল দাবি ও ভিডিওটির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ৩০ জুন সিরিয়া ভিত্তিক একটি ফেসবুক পেজে এই একই ভিডিও পাওয়া যায়। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিও-র ক্যাপশন থেকে জানা যায়, আটকৃত ব্যক্তির নাম তাইসির মাহফুজ। তিনি সিরিয়ার মেজ্জেহের রেইড ইউনিটের প্রধান।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল ভাইরাল ভিডিও-র ব্যক্তির একটি ছবি-সহ অপর এক সিরিয়া ভিত্তিক ফেসবুক প্রোফাইলে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টেও এই একই তথ্যর পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে, মেজ্জেহের এলাকার শতশত নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা, তাদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই হত্যার অভিযোগে তাইসির মাহফুজকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে একাধিক আরবি এবং তুর্কি সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও-র ব্যক্তির ছবি-সহ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তাইসির মাহফুজ ছিলেন সিরায়ার প্রাাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদ সরকারের আমলের একজন কমান্ডার। আসাদ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে সিরিয়ার মেজ্জেহ জেলায় মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ মানুষদের গ্রেফতার ও হত্যার অপরাধের একাধিক অভিযোগ ছিল। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল তাঁকে গ্রেফতার করে দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার পুলিশ। পাশাপাশি এখানে উল্লেখ্য, আমরা আমাদের অনুসন্ধানে সম্প্রতি আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের গোপন তথ্য ফাঁসের অপরাধে ইরানে তাঁর দেহরক্ষীকে গ্রেফতারের কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদন খুঁজে পাইনি।

এর থেকে প্রমাণ হয়, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেহরক্ষীকে গ্রেফতার দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে সিরিয়ার অসম্পর্কিত ভিডিও।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ইজরায়েল এবং আমেরিকার কাছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করার অপরাধে তাঁর দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করেছে ইরানি গোয়েন্দারা।
ভিডিওর ব্যক্তি আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেহরক্ষী নয়। বরং তিনি ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল সিরায়ায় গ্রেফতার প্রাাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদ সরকারের আমলের কমান্ডার তাইসির মাহফুজ।