scorecardresearch
 

ফ্যাক্ট চেক: সিভিক ভলান্টিয়ারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়োটি সত্যি ঘটনা ভেবে ভুল করবেন না

ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, সিভিকের পোশাকে থাকা এক যুবক একটি গাড়ির জানলা ধরে ঝুলছে ও তাঁকে সেভাবে নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটে চলেছে গাড়িটি।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: সিভিক ভলান্টিয়ারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়োতে সত্যি ঘটনা ভেবে ভুল করবেন না ফ্যাক্ট চেক: সিভিক ভলান্টিয়ারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়োতে সত্যি ঘটনা ভেবে ভুল করবেন না

কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে শূন্যপদ অঢেল। আর বিগত কয়েক বছর ধরে সেই ঘাটতি মেটাতে রাজ্য সরকার সিভিক পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়ারের উপর ভরসা রাখছে। তবে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। এ বার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো বেশ ভাইরাল হয়েছে যেখানে সিভিকের পোশাকে এক যুবককে দেখা যাচ্ছে।

ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, সিভিকের পোশাকে থাকা এক যুবক একটি গাড়ির জানলা ধরে ঝুলছে ও তাঁকে সেভাবে নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটে চলেছে গাড়িটি। গাড়ির ভিতরে থাকা আরোহীদের সঙ্গেও যুবকের জোর বাক-বিতণ্ডা চলছে। যুবকটি আরোহীরা বারবার প্রশ্ন করছেন যে সে কোন সাহসে তোলাবাজি করছে ও গাড়ির চাবিতে হাত দিচ্ছে। 

এক পর্যায়ে ওই যুবক ক্ষমা চাইছে এবং জানাচ্ছে যে থানার বড়কর্তাদের নির্দেশেই তাদের তোলাবাজি করতে হয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মিনিটের ভিডিয়োটি শেয়ার করে অনেকেই লিখছেন যে, সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। 

উদাহরণস্বরূপ, একটি পেজ থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, "গাড়ির চাবি খুলতে গিয়ে বিপদে পড়লো সিভিক ভলেন্টিয়ার । দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও ।" 

ভাইরাল ভিডিয়োটির আর্কাইভ এখানে দেখা যাবে। 

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে যে, এটি কোনও আসল ঘটনা নয়। গোটা ভিডিয়োটি আসলে মজার জন্য তৈরি করা। 

কীভাবে জানা গেল সত্যি? 

ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে তার রিভার্স ইমেজ সার্চ করতে ওই একই ভিডিয়োটি আমরা দেখতে পাই অন্য একটি পেজে। এখানে ভিডিয়োটির উপর Comedy Processing Unit লেখা একটি ওয়াটারমার্ক দেখতে পাওয়া যায়। যা থেকে আন্দাজ করা যায় যে সম্ভবত ভিডিয়োটি কৌতুকের উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি। 

Advertisement

এই বিষয়টিকে সূত্র ধরে আমরা Comedy Processing Unit লিখে ফেসবুকে কিওয়ার্ড সার্চ করি ও একই নামের একটি ফেসবুক পেজ খুঁজে পাই। 

সেই পেজে দেখা যায়, ভাইরাল ভিডিয়োতে যে যুবককে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে দেখানো হয়েছে ও যিনি গাড়ি চালাচ্ছেন, ওই একই ব্যক্তিরা অন্যান্য বেশ কিছু ভিডিয়োও তৈরি করেছেন। 

যেমন ১২ জুলাই ওই পেজ থেকে 'Delivery boy iPhone scam' শীর্ষক একটি ভিডিয়ো প্রকাশ পায় যেখানে একই চরিত্রগুলির কাউকে ডেলিভারি বয়, আবার কাউকে কাস্টমারের ভূমিকায় দেখা যায়। এর থেকেই কার্যত আন্দাজ করা যেতে পারে যে ভাইরাল ভিডিয়োতে যাদের দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তারা আসলে অভিনয় করছেন। 

যদিও Comedy Processing Unit নামের পেজে আমরা সিভিক ভলান্টিয়ারের আসল ভিডিয়োটি খুঁজে পাইনি। তার কারণ অবশ্য এই ভিডিয়োতে থাকা শিল্পীরাই জানান। এদিন তাঁরা অন্য একটি ভিডিয়ো আপলোজ করে জানান যে আগের ভিডিয়োটি তাঁরা ডিলিট করে দিচ্ছেন কারণ এটি ভাইরাল হওয়ার পর বেশ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই ভিডিয়োটিকে আসল ঘটনা ভেবে নিচ্ছেন।

একই সঙ্গে এই ভিডিয়োতে তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে আসল ভিডিয়োটিতে একটি Disclaimer দেওয়া ছিল, যেখানে লেখাই ছিল যে এটি একটি নাট্য রূপান্তর। কিন্তু কিছু মানুষ ওই অংশটি বাদ দিয়ে এমনভাবে ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন যেন সেটি কোনও আসল ঘটনা। এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কারণে ওই ভিডিয়োতে অভিনয় করা শিল্পীরা ক্ষমাও চেয়ে নেন। 

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে কাল্পনিক ঘটনার একটি স্ক্রিপ্টেড ও নাট্য রূপান্তর করা ভিডিয়ো বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে ভাইরাল হয়েছে ও সেই কারণে বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। 

 

ফ্যাক্ট চেক

facebook pages

দাবি

ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে যে এক সিভিক ভলান্টিয়ার, যে রাস্তায় তোলাবাজি করছিল, তাকে কীভাবে এক ড্রাইভার হেনস্থা করছে।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিয়োটি স্ক্রিপ্টেড। এখানে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা সকলেই অভিনয় করছেন।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
facebook pages
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদের সংখ্যা 73 7000 7000 উপর পাঠান.
আপনি আমাদের factcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
Advertisement