ফ্যাক্ট চেক: হাওড়ায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংঘর্ষ? না, ভিডিওটি মার্চের এবং অন্য ঘটনার

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি গত ১০ মার্চের এক নবান্ন অভিযানের সময় হওয়া বচসার। এখানে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও সংঘর্ষ হয়নি।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: হাওড়ায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংঘর্ষ? না, ভিডিওটি মার্চের এবং অন্য ঘটনার

‘হিংসা বিহীন এবং শান্তিপূর্ণ’ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে চলতি ভোটের আবহে রাজ্যে মোট ২৫৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করেই গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে টহল দেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ছড়িয়ে পড়েছে যা পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, হাওড়া জেলায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি রাস্তার উপর পুলিশ ও সেনার পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি, ও সেই সঙ্গে সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু ব্যক্তি হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। কোথাও আবার এক পুলিশকর্মীকেই দেখা যাচ্ছে অপর এক পুলিশকর্মীকে সরিয়ে নিয়ে যেতে। বচসায় জড়িয়ে পড়তে। ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে একটি সংঘর্ষ হয়েছে।

ভিডিও-র ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায়, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হলো।মমতা ব্যানার্জীর এই পুলিশরা কি পশ্চিমবঙ্গকে একটি আলাদা দেশ মনে করে, নাকি অন্য কোনো আইন মেনে চলে? সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে বাংলার সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করছে।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি গত ১০ মার্চের এক নবান্ন অভিযানের সময় হওয়া বচসার। এখানে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও সংঘর্ষ হয়নি।

সত্য উদঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও পাওয়া যায় হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিক এক্স হ্যান্ডেলে। ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখা হয় যে, ভুয়ো দাবিতে এটি প্রচার করা হচ্ছে। হাওড়া পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ১০ মার্চের যখন রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফোর্সের সদস্যরা নবান্ন অভিযান করেছিলেন।

Advertisement

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওটি উক্ত অভিযানের সময় “পুলিশের আইনী সংযম সম্পর্কিত।”

হাওড়া পুলিশের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে এরপর সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফোর্সের সদস্যদের নবান্ন অভিযান সম্পর্কিত কিওয়ার্ড সার্চ করা হয়। তখন গত ১০ মার্চ এবিপি আনন্দের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্ট হওয়া ভিডিও পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিভিল ডিফেন্সের নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় ধর্মতলায়। আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চের দিকে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়।

একই বিষয় নিয়ে ১১ মার্চও এবিপি আনন্দের ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়। ভাইরাল ভিডিওটি যে রাস্তার যেই এলাকায় রেকর্ড করা, এবিপি আনন্দের প্রতিবেদনেও একই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারদের বচসায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ভিডিও-র বিবরণ অনুযায়ী, এই ঘটনা হাওড়ার তেলকল ঘাটের কাছে ঘটেছিল।

এরপর Ekhon Diganta Patrika নামের একটি ফেসবুক পেজে ও ইউটিউব চ্যানেলে ১১ মার্চ আপলোড হওয়া একটি ভিডিওতে হুবহু সেই দৃশ্য দেখা মেলে যা ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল। এই চ্যানেলে আপলোড হওয়া পাঁচ মিনিটের বেশি দীর্ঘ ভিডিও-র ঠিক ২ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড থেকে সেই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে যা ভাইরাল ভিডিওতে রয়েছে।

ক্যাপশন অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থায়ীকরণের মতো একাধিক দাবিতে সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফোর্সের স্বেচ্ছাসেবকরা এই আন্দোলন করছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় নবান্ন যাওয়ার উদ্দেশ্যে মিছিল করে অগ্রসর হচ্ছিলেন। কিন্তু সেই পর্যন্ত পৌঁছনর আগেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ বাহিনী।

সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকছে না যে পুরনো এবং অপ্রাসঙ্গিক একটি ঘটনার ভিডিওকে বর্তমানে কীভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যে দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে।

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

হাওড়া জেলায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে।

ফলাফল

ভিডিওটি গত ১০ মার্চ সিভিল ডিফেন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফোর্সের নবান্ন অভিযানের সময়কার। সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বচসা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের কোনও সংঘর্ষ হয়নি।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement