

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে যে, বিএসএফ কমান্ড্যান্ট ৮৩ ব্যাটালিয়নের জিবু বি ম্যাথিউ নামে এক আধিকারিককে ৯৬ কোটি টাকা-সহ গ্রেফতার করেছে সিবিআই। পোস্টের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েনের সময় বিএসএফ নাকি এই কমান্ড্যান্ট অবৈধ রোহিঙ্গা এবং গরু পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন। সিবিআই দল তাকে শালিমার এক্সপ্রেসে গ্রেপ্তার করেছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে পুলিশ আধিকারিকরা দুজন ব্যক্তির সঙ্গে রয়েছেন যারা কোথাও বসে রয়েছেন। পেছনের একজন ব্যক্তি এই লোকদের একজনকে জিজ্ঞাসা করেন যে তার বাড়ি থেকে জব্দ করা ৯৬ কোটি টাকার বিশাল পরিমাণ অর্থ সম্পর্কে তার কিছু বলার আছে কিনা।

ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “দেশকে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে, সিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিএসএফ কমান্ড্যান্ট ৮৩ ব্যাটালিয়ন জিবু বি ম্যাথিউ সারকে সিবিআই গ্রেপ্তার করেছে। সিবিআই দল তাকে শালিমার এক্সপ্রেসে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিবিআই কেরালা থেকে ৭৬ লক্ষ টাকা নগদ এবং তার বাড়ি থেকে ৯৬ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েনের সময় বিএসএফ কমান্ড্যান্ট অবৈধ রোহিঙ্গা এবং গরু পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন।”
একই দাবি-সহ একটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশটও অনেকে শেয়ার করে লিখেছেন, “সীমান্তের রক্ষকই ভক্ষক? বিএসএফ কমান্ড্যান্টের ট্রলি ব্যাগে ৪৫ লক্ষ, বাড়িতে মিলল ৯৬ কোটি!”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি ২০১৮ সালের কানপুরের, যখন বাতিল হয়ে যাওয়া ৯৬ কোটির নোট এক নির্মাণ ঠিকাদারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে জিবু ম্যাথিউ নামে এক বিএসএফ কর্মীকে গ্রেফতার করা হলেও তার থেকে ৯৬ কোটি টাকা উদ্ধার হয়নি।
সত্য উদঘাটন
ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স-সার্চ করা হলে একই ভিডিও ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারির একটি ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল, "কানপুরের আনন্দ খাত্রি নির্মাতার কাছ থেকে ৯৬.৪০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে ব্রেকিং নিউজ।"
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধান করা হলে এই ঘটনা সম্পর্কে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে জানা যায়, কানপুর পুলিশ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে স্বরূপ নগরের একটি বাড়ি থেকে ৯৬ কোটি টাকার পুরনো অর্থাৎ বাতিল নোট উদ্ধার করে। খবরে সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট অখিলেশ কুমার মীনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, ৯৬ কোটি টাকা কানপুরের একজন বিখ্যাত ঠিকা নির্মাতা আনন্দ খাত্রির কাছে উদ্ধার হয় এবং আরও এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়।
২০১৬ সালের নভেম্বরে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার পুরনো নোট নিষিদ্ধ করার পর থেকে এটিই ছিল সবথেকে বড় বাতিল নোট উদ্ধারের ঘটনা। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা বৈধ অর্থে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে লুকানো হয়েছিল বলে জানা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, পুলিশ সারা দেশে এমন একটি নেটওয়ার্ক খুঁজে পায় যারা বাতিল নোট সংগ্রহ করে কানপুরের আনন্দ খাত্রির কাছে নিয়ে আসত। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
Kanpur: All accused arrested in connection with recovery of Rs 96 crores in demonetised currency, sent to jail, booked under several sections. pic.twitter.com/6JWg52FuE2
— ANI UP/Uttarakhand (@ANINewsUP) January 17, 2018
পাশাপাশি, জিবু বি ম্যাথিউর গ্রেফতারি সম্পর্কে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি এনডিটিভিতে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রেনে কেরলের আলিপ্পি স্টেশনে নামার সময় তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে সিবিআই। সেই সময় জিবু বি ম্যাথিউকে বহরমপুরের লাগোয়া বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছিল। এরপর জিবুর কাছে থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
২০২৫ সালেও একই ধরনের বিভ্রান্তিকর দাবিতে এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। সেই সময়ও ইন্ডিয়া টুডের পক্ষ থেকে এর সত্যতা যাচাই করা হয়।
অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে ২০১৮ সালে এক বিএসএফ আধিকারিকের গ্রেফতারের ঘটনা ওই বছরের অন্য একটি অসম্পর্কিত ভিডিও-র সঙ্গে জুড়ে শেয়ার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য।

বিএসএফ-এরকমান্ড্যান্ট জিবু বি ম্যাথিউকে সিবিআই ৯৬ কোটি টাকা-সহ গ্রেপ্তার করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন থাকাকালীন তিনি অবৈধ রোহিঙ্গা ও গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শালিমার এক্সপ্রেসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভিডিওটি আসলে ২০১৮ সালে কানপুরে এক নির্মাণ ঠিকাদারের বাড়ি থেকে ৯৬ কোটি টাকার বাতিল নোট উদ্ধার হওয়ার। যদিও ২০১৮ সালেই জিবু বি ম্যাথিউ নামে এক বিএসএফ আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে কাছ থেকে ৯৬ কোটি টাকা উদ্ধার হয়নি।