ফ্যাক্ট চেক: ভোটের সকালেই তৃণমূলের বুথকর্মীকে সপাটে চড় পুলিশের? না, ভিডিওটি ২০২৩ সালের

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে চলতি নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়কার।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: ভোটের সকালেই তৃণমূলের বুথকর্মীকে সপাটে চড় পুলিশের? না, ভিডিওটি ২০২৩ সালের

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের চিরাচরিত ধারা বজায় রেখেই প্রথম দফার বিধানসভা ভোটেও নানা জেলা থেকে উঠে এসেছে অশান্তির খবর। কোথাও আবার প্রার্থীদের মারধর করা হয়েছে, রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হচ্ছে যেখানে রাস্তার ধারে বসে থাকা তৃণমূলের এক বুথকর্মীকে চড় মারতে দেখা যাচ্ছে এক পুলিশকর্মীকে।

ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে একে প্রথম দফার ভোটের সকালের দৃশ্য বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “সকাল সকাল চা, নাস্তা করিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনীর লোক।”

কোনও পেজ থেকে আবার এই একই ভিডিও পোস্ট করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ২৩ এপ্রিল সকালে পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “তৃণমূল বুথ কর্মীকে সপাটে চড় পুলিশের।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে চলতি নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়কার।

সত্য উদ্ঘাটন

যদি প্রথম দফার ভোট চলাকালীন পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী তৃণমূলের কোনও বুথকর্মীকে চড়-থাপ্পড় মেরে থাকতেন, তবে সেই সম্পর্কে কোনও না কোনও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ পেত। কিন্তু কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে এমন কোনও ঘটনার উল্লেখ বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এরপর ভাইরাল ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে তা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও Canning News নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটি ওই পেজে পোস্ট করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৯ জুলাই। যা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভিডিওটির সঙ্গে বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়।

ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছিল, “ভোটের দিন ক্যানিং এর বাসন্তীর অবস্থা দেখুন।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৮ জুলাই রাজ্যজুড়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে অনুমান করা যায় যে ভিডিওটি সর্বশেষ পঞ্চায়েত ভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে থাকতে পারে।

Advertisement

এই সূত্র ধরে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ইউটিউব শর্টের আকারে ওই একই ভিডিও News 18-এর ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “Panchayat Election এ Basanti তে বোমাবাজি! জটলা দেখেই চড় পুলিশের, দেখুন।”

এই একই ভিডিও-র একটি বর্ধিত অংশ News 18-এর ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৮ জুলাই ভিডিওটি পোস্ট করে বিবরণে লেখা হয়, “গতকাল রাতে বাসন্তীতে বোমাবাজির অভিযোগ। ভোটের দিন সকালে রাস্তার পাশে উদ্ধার বোমা। এলাকায় আতঙ্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসরে পুলিশ। জটলা দেখলেই পদক্ষেপ। কখনও লাঠি উচিয়ে তাড়া। মারধর করতেও দেখা গেল উর্দিধারীদের।”

ফলে সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের একটি ভিডিওকে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে প্রথম দফার ভোটের দৃশ্য দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে।

ফ্যাক্ট চেক

Social Media Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের সকালে তৃণমূলের এক বুথকর্মীকে পুলিশ সপাটে চড় মেরেছে।

ফলাফল

ভিডিওটির সঙ্গে বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি ২০২৩ সালের ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়কার।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Social Media Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement