ফ্যাক্ট চেক: ভবানীপুরের মানুষ দরজা খুলছে না দাবিতে প্রচারিত শুভেন্দু অধিকারীর ভিডিওটি ২০২৩ সালের

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং ২০২৩ সালের এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। এর সঙ্গে বর্তমানে ভবানীপুরে প্রচারের কোনও সম্পর্ক নেই।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: ভবানীপুরের মানুষ দরজা খুলছে না দাবিতে প্রচারিত শুভেন্দু অধিকারীর ভিডিওটি ২০২৩ সালের

২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি এ বার দেখতে চলেছে ভবানীপুর। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি লড়বেন নন্দীগ্রাম আসন থেকেও। আর নির্বাচনের মাসখানেক বাকি থাকতে জোরকদমে প্রচারেও নেমে পড়েছেন তিনি।

এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে প্রচার করতে গেলে নাকি সেখানকার বাসিন্দারা দরজা খুলছেন না। ভিডিওতে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যাচ্ছে একটি কলাপসিবল গেট ধরে জোরে ঝাঁকাতে এবং ‘ইয়ার্কি হচ্ছে!’ বলে নেমে আসছেন। ভিডিওটি পোস্ট করে তার উপর লেখা হয়েছে, “ভবাণীপুরের মানুষ দরজা খুলছে না।” (বানান অপরিবর্তিত)

অনেকেই ভিডিওটি পোস্ট করে লিখেছেন, “ভবানীপুরে প্রচারে গিয়ে।” কেউ আবার লিখেছেন, “প্রচারে বেরিয়েছে শুভেন্দু ভবানিপুরে লোকে দরজা খুলছে না। মেজাজ হারিয়ে ফেললো শুভেন্দু।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং ২০২৩ সালের এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। এর সঙ্গে বর্তমানে ভবানীপুরে প্রচারের কোনও সম্পর্ক নেই।

সত্য উদঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স সার্চের মাধ্যমে তা খোঁজা হলে আসল ভিডিওটি তাজ নিউজ বাংলা নামের একটি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটি ২০২৩ সালের ৯ জুলাই পোস্ট করা হয়েছিল।

এর ক্যাপশনে লেখা হয়, “নির্বাচন কমিশনে ঢুকেই দরজা বন্ধ দেখে মেজাজ হারান শুভেন্দু অধিকারী।” যা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে এর সঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারের কোনও সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়।

উক্ত সময়ের টাইম ফিল্টার যোগ করে অ্যাডভান্স সার্চ করা হলে এই বিষয়টি নিয়ে এবিপি নিউজনিউজ 18 বাংলায় প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ৯ জুলাই এবিপি নিউজে এই ঘটনার একটি পৃথক অ্যাঙ্গেলের ভিডিও প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ভোটের দিনই ১৫জনের মৃত্যু, প্রতিবাদে কমিশনে তালা ঝোলালেন শুভেন্দু।”

Advertisement

বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, এই ঘটনাটি ২০২৩ সালে হওয়া রাজ্যের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধুমাত্র ভোটের দিনই ১৫ জন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গেলে সেখানে তালা ঝুলতে দেখে প্রতিবাদ জানান শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে গণনার দিন হাইকোর্টেও যাওয়ার হুমকি দেন বিরোধী দলনেতা। এরপর কমিশন থেকে বেরনোর সময় মূল ফটকে তিনি প্রতীকী তালা ঝুলিয়ে আসেন।

নিউজ 18 বাংলার খবরে বলা হয় যে পঞ্চায়েত ভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগে তিনি কালো ব্যাজ পরে নির্বাচন কমিশনের অফিসে যান। সেখানে গিয়ে দফতরের ভেতরের গেট বন্ধ দেখতে পেলে গেটে লাথি মারেন।

অন্যদিকে, ভবানীপুরে ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রচারে গেলে এভাবে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বা বিরোধী দলনেতা এমন কারণে মেজাজ হারিয়েছেন, এই ধরনের কোনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ভবানীপুরে শুভেন্দুর সাম্প্রতিক নানা প্রচারের ভিডিও এখানে, এখানে এখানে দেখা যাবে।

সুতরাং বুঝতে বাকি থাকে না যে ২০২৩ এর একটি সম্পূর্ণ পৃথক ও অসম্পর্কিত ঘটনাকে বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে জুড়ে শেয়ার করে হচ্ছে, যা পুরোপুরি ভুয়ো।

ফ্যাক্ট চেক

Social Media Users

দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ভবানীপুরে প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সামনে স্থানীয় মানুষ দরজা খুলছেন না।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিও।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Social Media Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement