

১৪ মার্চ, শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সভা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। সেই সভার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, সভায় লোক ভরাতে বিজেপির পক্ষ থেকে বিহার থেকে ট্রেনে করে লোক নিয়ে আসা হচ্ছে।
এই ভিডিওতে জনাকয়েক ব্যক্তিকে একটি ট্রেনের কামরায় বিজেপির প্রতীক-সহ কাপড় গলায় পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে থাকা ভয়েসওভারে দাবি করা হচ্ছে, এই ব্যক্তিরা বিহারের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার জন্য তাদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওর নেপথ্য কণ্ঠস্বর যখন প্রশ্ন করছে টিকিট কীভাবে কাটা হয়েছে, তখন জবাবে তাদের বলতে শোনা যাচ্ছে যে বিজেপি। এরপর জানতে চাওয়া হচ্ছে যে ফিরে আসার কী ব্যবস্থা রয়েছে? তখন তারা বলছেন যে নিজেদের টাকায় ফিরবেন।

ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “হাওড়ায় মোদিজী সবার জন্য বিহার থেকে ট্রেন ভর্তি করে লোক নিয়ে আসছে বিজেপি। বাংলায় এদের কোন ক্ষমতাই নেই সভায় লোক ভরানোর তাই বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসতে হয়। ছিঃ বিজেপি ছিঃ।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে কলকাতায় নরেন্দ্র মোদীর সভার কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি কয়েকমাস পুরনো এবং হরিয়ানার করনালের।
সত্য উদঘাটন
ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে তা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও পাওয়া যায় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের আধিকারিক ফেসবুক পেজে। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। যা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে এর সঙ্গে ১৪ মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সভার কোনও সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়।

ভিডিও-র ক্যাপশনে লেখা হয়, “নির্বাচন চলাকালীন বিজেপি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল, এতে লোকেদের টিকিট কেটে এবং গলায় উত্তরীয় পরিয়ে আলাদা-আলাদা রাজ্য থেকে বিহারে পাঠানো হয়, যাতে তাঁরা বিজেপিকে ভোট দিতে পারে।” তবে এই ভিডিও-র ভয়েসওভার ও ভাইরাল ভিডিও-র ভয়েসওভার ছিল আলাদা। এখানে কোথাও হাওড়া বা কলকাতায় মোদীর সভা নিয়ে কাউকে কিছু বলতে শোনা যায়নি। বরং যাত্রীরা বলছিলেন যে তারা বিহারে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, এবং ভিডিওটি কারনাল স্টেশনের। কারনাল হরিয়ানার একটি শহর।
এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে দৈনিক ভাস্করেরও একটি সমসাময়িক রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন উপলক্ষে হরিয়ানার কারনার থেকে একটি বিশেষ ট্রেন চালানো হয় যেখানে মূলত বিহারের ভোটাররা ছিলেন। যা নিয়ে রাজনীতি সরগরম হয়।
নরেন্দ্র মোদীর সভা উপলক্ষে লোক আনার দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটি ‘itv’ নামের কোনও একটি চ্যানেলের লোগো দেখতে পাওয়া যায়। এই সূত্র ধরে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে আসল ভিডিওটি ITV24 নামের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায় যা ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওর প্রথম অংশ থেকেই ভাইরাল ক্লিপটি দেখা যাবে। ITV24-এর ফেসবুক পেজে ভিডিওটি একদিন আগে, অর্থাৎ ৩ নভেম্বর পোস্ট করা হয়েছিল। উভয় ক্লিপেই দাবি করা হয় যে স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে বিহারিদের তাদের রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে তারা ভোটে অংশ নিতে পারেন।
যদিও বাস্তবেই বিজেপি এই ব্যক্তিদের টিকিট কেটে দিয়েছিল কিনা, বা বিহার থেকে ট্রেনে করে নরেন্দ্র মোদীর কলকাতার সভায় লোক আনা হচ্ছে কিনা, সেটা পৃথকভাবে যাচাই করা হয়নি।
তবে বুঝতে বাকি থাকে না যে ২০২৫ সালের একটি ভিডিওকে কারসাজি করে বর্তমানে ভুয়ো দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সভায় লোক ভরাতে বিজেপি বিহার থেকে ট্রেনে করে লোক নিয়ে আসছে।
ভিডিও-র ভয়েসওভারটি সম্পাদিত। ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির সভার কোনও সম্পর্ক নেই। এটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে হরিয়ানার করনালের একটি পুরনো ভিডিও যা বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত।