

তিলজলার অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার চালানো থেকে শুরু করে রাস্তা আটকে নামাজে নিষেধাজ্ঞা, একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মে-র পার্ক সার্কাসের জমায়েত-বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, ভাঙা হয় বাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৪০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই সার্বিক পরিস্থিতিতে একটি জমায়েতের উপর পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জের ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হচ্ছে। ভিডিওটি পোস্ট করে একে পার্ক সার্কাসের দৃশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে। ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে কেউ লিখেছেন, “১৫ বছরের পুরনো স্বভাবজনিত কারণে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর-জুতো ছুড়ছিলো...তারপর হঠাৎ করে পুলিশ বোলিং-পিচে ছক্কা মারতে শুরু করল, এতদিন পর কলকাতার পুলিশ কে প্রনাম করতে ইচ্ছে করছে।”

বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরাও একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন।
#পার্ক_সার্কাস
— Dr. Anupam Hazra ডঃ অনুপম হাজরা (@tweetanupam) May 18, 2026
১৫ বছরের পুরনো স্বভাবজনিত কারণে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর-জুতো ছুড়ছিলো...
তারপর হঠাৎ করে পুলিশ বোলিং-পিচেও বৈভব সূর্যবংশী হয়ে উঠলো 🔥 pic.twitter.com/ERJMW7pqft
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি পুরনো এবং উত্তর প্রদেশের। এর সঙ্গে পার্ক সার্কাসের ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই।
সত্য উদ্ঘাটন
ভাইরাল ভিডিওটির কিফ্রেম গুগল লেন্সের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পাওয়া যায়। ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। এর থেকেই একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে পার্ক সার্কাসের ঘটনার সঙ্গে এর কোনও সংযোগ নেই।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘বরেইলি শরিফ ইসলামিয়া।’
এই সূত্র ধরে সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও নিউজ৯-সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া যায়। যেখানে একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। খবরগুলিতে বলা হয় যে দৃশ্যগুলো উত্তর প্রদেশের বেরেলির, যেখানে 'আই লাভ মোহাম্মদ' ইস্যু-সম্পর্কিত বিক্ষোভের জেরে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি এলাকায় পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
“আই লাভ মুহাম্মদ” বিতর্কটির সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, যখন কানপুর পুলিশ ওই মাসের ৪ তারিখ মিছিল চলাকালে একটি প্রকাশ্য রাস্তায় “আই লাভ মুহাম্মদ” স্লোগান লেখা বোর্ড প্রদর্শনের অভিযোগে নয়জন নামধারী এবং ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে। বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে একটি “নতুন প্রবণতা” আখ্যা দেয় এবং অভিযোগ করে যে এটি একটি ইচ্ছাকৃত উস্কানি ছিল। এই বিতর্কের জেরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
আমরা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর কিছু সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাই, যেগুলিতে ভাইরাল ভিডিওটির মূল দৃশ্যগুলো ছিল। এই প্রতিবেদনগুলো অনুসারে, “আই লাভ মোহাম্মদ” বিতর্ককে কেন্দ্র করে শুক্রবারের নামাজের পর বরেলিতে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
অর্থাৎ, উত্তর প্রদেশে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের লাঠিচার্জের একটি পুরোনো ভিডিওকে বর্তমানে পার্ক সার্কাসে পুলিশি পদক্ষেপের দৃশ্য বলে মিথ্যে দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে।

পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য়।
ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর প্রদেশের বরেলিতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বিতর্ক ঘিরে হওয়া বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের পুরনো ভিডিও।