

ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও হামলা চালিয়েছে ইরান। যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির কাছে সম্প্রতি ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি। সেই সঙ্গে আত্মসমর্পণ করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়াই দুটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। প্রথম ভিডিওতে দমকল বাহিনীকে উঁচু সিঁড়ি ব্যবহার করে কোনও বাড়িতে আগুন নেভাতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আচমকাই সেখানে একটি বিরাট মাপের বিস্ফোরণ হচ্ছে। বিস্ফোরণে এলাক রীতিমতো কেঁপে উঠছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের ছোড়া একটি মিসাইল ইজরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে পড়ে ছিল। কিন্তু সেখানে আগুন নেভাতে গেলে তাতে বিস্ফোরণ হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “তেল আবিবে একটি ইরানি মিসাইল অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে ছিল।দমকল কর্মীরা মিসাইলটির কাছে গেলেই মিসাইলটি বিস্ফোরিত হয়।”
দ্বিতীয় ভিডিওতে একটি বহুতলের নিচের অংশে আগুন লাগতে এবং লোকজনদের ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি ইজরায়েলের একটি ক্যাফেতে মিসাইল হামলার পরবর্তী দৃশ্য যেখানে অনেক নারী আহত হয়েছেন। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “ইসরাইলের একটি ক্যাফেতে অনেক নারী মিসাইল দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দুটি ভিডিও-র একটিও ইজরায়েলের নয়। প্রথমটি প্রায় ১০ বছর আগে আমেরিকার একটি ঘটনার। দ্বিতীয়টি ২০২৫ সালে দুবাইয়ের একটি অগ্নিকাণ্ডের।
সত্য উদঘাটন
প্রথম ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে তা খোঁজা হলে আসল ভিডিওটি অ্যালন সিমন্স নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায় যা ২০১৬ সালের ১৭ জুন আপলোড করা হয়েছিল। এই ভিডিওটি আপলোড করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছিল, মায়উড, সিএ, ম্যাগনেসিয়াম বিস্ফোরণ।
এর থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভিডিওটির সঙ্গে বর্তমান ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষের কোনও সম্পর্ক নেই।
ক্যাপশনে থাকা কিওয়ার্ড দ্বারা সার্চ করা হলে লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি নিউজ-সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, একটি বাণিজ্যিক এলাকায় এই আগুন লাগে যেখানে ম্যাগনেসিয়াম মজুদ করে রাখা ছিল। যার দরুণ এলাকা বিষাক্ত ধোঁয়ার ঢেকে যায় এবং ২০০ পরিবারকে স্থানান্তরিত করতে হয়। ঘটনাটি লস অ্যাঞ্জেলেসের মায়উড এলাকায় ঘটে।
অর্থাৎ, বুঝতে বাকি থাকে না যে ভিডিওটি ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের সঙ্গে কোনও ভাবেই সম্পর্কিত নয়।
এরপর দ্বিতীয় ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পাওয়া যায় যা ২০২৫ সালের ১৪ মে পোস্ট করা হয়েছিল। এর থেকে প্রমাণ হয়ে যায় যে ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কোনও সম্পর্ক নেই।
ভিডিওটিপ ক্যাপশন অনুযায়ী, এটি ছিল আল বারশা দুবাই এলাকার পার্ল ভিউ ক্যাফেটেরিয়ায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সঙ্গে আরও উল্লেখ করা হয় যে এই ঘটনার পর চটজলদি প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করা হয় এবং সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন।
এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে খলিজ টাইমসে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন ও একটি খবরে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে গ্যাস লিকের কারণে দুবাইয়ের আল জারুনি বহুতলে আগুন লাগে, এবং রেকর্ড সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। গ্যাস লিক থেকে হওয়া বিস্ফোরণের ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে উঠে আসে।
অর্থাৎ বুঝতে বাকি থাকছে না যে, ২০১৬ সালে আমেরিকা ও ২০২৫ সালের দুবাইতে হওয়া অগ্নিকাণ্ডের আলাদা-আলাদা ভিডিওকে বর্তমানে ইজরায়েলে ইরানের আঘাতের দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে, যা অসত্য।

ভাইরাল দুই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ইজরায়েলের তেল আবিবে ইরানের মিসাইল হামলার পরবর্তী দৃশ্য।
ভিডিও দুটি ইজরায়েলের নয়। একটি ২০১৬ সালে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের মায়উডে ম্যাগনেসিয়াম বিস্ফোরণের ঘটনা, আর অন্যটি ২০২৫ সালে দুবাইয়ের আল বারশা এলাকার একটি ক্যাফেতে গ্যাস লিকের কারণে হওয়া অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও।