ফ্যাক্ট চেক: ছবি তুলতে গিয়ে বিস্ফোরণ হওয়ার এই ভিডিওটি পাকিস্তানের নয়, ঘটনাও সাম্প্রতিক নয়

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার নয়। এমনকি, ঘটনাটি পাকিস্তানেরও নয়।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: ছবি তুলতে গিয়ে বিস্ফোরণ হওয়ার এই ভিডিওটি পাকিস্তানের নয়, ঘটনাও সাম্প্রতিক নয়

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ৬-৭ জন যুবককে একটি জায়গায় বসে আরবি ভাষায় কোনও গান গাইতে শোনা যাচ্ছে ও তাদের সামনে দুটি বন্দুক সাজিয়ে রাখা আছে। পিছনে একটি ইরানের পতাকাও দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় আচমকা একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় ও ক্যামেরা উল্টে যায়। সেই সঙ্গে ওই যুবকদের আর্তনাদের আওয়াজও শোনা যায়।

২৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি পোস্ট করে একে পাকিস্তানের ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “পাকিস্তানের দৃশ্য..পার্টি করতে করতে সরাসরি জা*ন্নাতী পৌঁছে গেছে।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার নয়। এমনকি, ঘটনাটি পাকিস্তানেরও নয়।

সত্য উদঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও-র স্ক্রিনশট ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টে পাওয়া যায়। রিপোর্টটি প্রকাশ পেয়েছিল ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিডিওটি সিরিয়ার একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামের এই গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের ভিডিও রেকর্ড করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলে।

এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে সার্চ করা হলে ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডেইলি মেলের একটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেই রিপোর্টে বলা হয়, পূর্ণাঙ্গ ভিডিওটি ছিল ৩০ সেকেন্ডের। সেলফি তুলতে গিয়ে তারা ভুলবশত একটি বোমা ট্রিগার করে ফেলে। আসল ভিডিওতে বিস্ফোরণের পর ক্যামেরাটি উল্টে গেলে একটি সিলিং ফ্যানের দিকে তাক করা অবস্থায় দেখা যায়।

ঠিক সেই সময় বিদ্রোহীদের 'আল্লাহু আকবর' - যার অর্থ 'ঈশ্বর মহান' - বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে কয়েকজন বিদ্রোহী তাদের সহযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য ক্যামেরার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ক্যামেরাটি নষ্ট না হওয়া এবং ঘরের কয়েকজন সদস্য়দের অক্ষত দেখে ধারণা করা যায় যে বোমাটি তুলনায় ছোট হতে পারে।

Advertisement

যদিও এই বিস্ফোরণে কেউ আহত হয়েছিল কিনা বা কারোর মৃত্যু হয়েছিল কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ভিডিওটি পাকিস্তানের নয় এবং কোনও সাম্প্রতিক ঘটনাও নয়, সে কথা বুঝতে বাকি থাকে না।

 

ফ্যাক্ট চেক

Facebook Users

দাবি

এই ভিডিওটি পাকিস্তানের এবং কয়েকজন সন্ত্রাসী পার্টি করতে গিয়ে মারা গিয়েছে।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি সিরিয়ার একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এবং ২০১৬ সালের, সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার নয়।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Facebook Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement