

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তা আটকে সব ধরনের ধর্মীয় আচরণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৫ মে কলকাতার রাজাবাজার এলাকায় রাস্তা আটকে নামাজ পড়ায় বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে একদফা বচসা হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের। এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, এবার পুজোয় নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এহেন দাবিতে যে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে সেখানে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোডিয়ার সঙ্গে পুলিশের বচসা চলছে। একদিকে পীযূষকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আরে ভাই পুজো করবে না!” তখন উত্তরে পুলিশকর্মী বলছেন, “না মন্দিরে যাবে।” এর পরের কথোপকথন স্পষ্ট নয়।

ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “রাস্তায় নামাজ নিষিদ্ধ করার পর এবার পূজাও নিষিদ্ধ করল কলকাতা পুলিশ। আইন হোক সবার জন্য সমান, রাস্তা কারো নিজস্ব সম্পত্তি নয়। শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দেন।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি গত মার্চ মাসের এবং এর সঙ্গে বিজেপি সরকারের সাম্প্রতিক নেওয়া কোনও সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
সত্য উদ্ঘাটন
ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে তার রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও ‘EkhonKolkata’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। তবে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল চলতি বছর ২৬ মার্চ। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভিডিওটির সঙ্গে নতুন সরকারের কোনও সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়। কারণ গত ৪ মে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে গত ৯ মে।

‘EkhonKolkata’-র ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, “নিউ টাউনে রাম নবমীর মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, বচসায় জড়ালেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া।” প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে রামনবমী পালন করা হয়েছিল।
এর থেকে সূত্র নিয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ২৬ মার্চ প্রকাশিত একাধিক নিউজ রিপোর্ট পাওয়া যায়। “রামনবমীর মিছিলে অস্ত্র হাতে যুবক ! নিউটাউনের শোভাযাত্রায় উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি” — শীর্ষক এবিপি আনন্দের রিপোর্টে বলা হয়, নিউটাউনে রামনবমী শোভাযাত্রায় এক যুবক অস্ত্র (তলোয়ার) নিয়ে এলে পুলিশ বাধা দেয় এবং তা নিয়ে নিতে উদ্যত হয়। তখন তৎকালীন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোডিয়া পুলিশের হাত থেকে ওই যুবককে ছাড়াতে যান। এরপর পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি ও বচসা শুরু হয়, যা থেকে ক্রমে উত্তেজনা ছড়ায়।

এবিপি ছাড়াও TV9 বাংলা ও কলকাতা টিভির মতো একাধিক সংবাদ মাধ্যমে এই নিয়ে খবর প্রচারিত হয়। খবরগুলিতে বলা হয়, অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা নিয়ে পীযূষ কানোডিয়া ও পুলিশের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাদনুবাদ চলে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে রামনবমীতে অস্ত্র পুজো দিতে হয়, তাই অস্ত্র আনা হয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করায় হাইকোর্টের নিষেধ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত অস্ত্র নামিয়েই তারপর মিছিলে অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ মে রাজাবাজারে রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয়েছিল পুলিশের তরফে। তবে কোথাও রাস্তার উপর পুজো নিয়ে এহেন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সবমিলিয়ে বলাই যায় যে পূর্বতন সরকারের আমলের একটি ভিডিওকে বর্তমানে বিভ্রান্তিকর দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হচ্ছে।

কলকাতায় রাস্তায় নামাজ নিষিদ্ধ করার পর এবার পুলিশ পুজোও নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
ভিডিওটি গত মার্চের রামনবমীর শোভাযাত্রার সময়কার, যখন অস্ত্র নিয়ে মিছিলকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা পীযূষ কানোডিয়া ও পুলিশের মধ্যে বচসা হয়েছিল। পুলিশ পুজো নিষিদ্ধ করেনি, বরং অস্ত্র নিয়ে মিছিল করায় আপত্তি জানিয়েছিল।